• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বদলি ঠেকাতে গভীর রাতে ২৪ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ, নেপথ্যে বিএনপি নেতা দোলন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২৭ পিএম;
বদলি ঠেকাতে গভীর রাতে ২৪ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ, নেপথ্যে বিএনপি নেতা দোলন

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহুল আলোচিত ডা. মোঃ রাশেদুল হাসান মাহমুদ ও ডা. নীলা ইসরাক সুলতানা দম্পতির প্রশাসনিক অনিয়ম, প্র্যাকটিস সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির বিষয়ে ‘দৈনিক পুনরুত্থান’-এ ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ে ইমেইলের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ ও দালিলিক প্রমাণাদি দাখিল করায় উক্ত কর্মকর্তা দম্পতির বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সারা দেশে চিকিৎসকদের নিয়মিত বদলি আদেশের তালিকা চূড়ান্তকরণের তোড়জোড় শুরু হয়। তবে এই বদলি ঠেকাতে এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ ধামাচাপা দিতে এবার কোটি টাকার অনৈতিক লেনদেনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। গভীর রাতে বাসভবনে কোটি টাকার লেনদেন!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নিয়মিত বদলি আদেশের খবর পেয়ে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) সাথে সাক্ষাৎ করেন ডা. রাশেদ। তবে সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত আশ্বাস না পেয়ে তারা শরণাপন্ন হন রাজনৈতিক আশ্রয়ের। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৮ই সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনকে নিজেদের বাসভবনে ডেকে নেন ডা. রাশেদ-নীলা দম্পতি। সেখানে নিজেদের বদলি স্থগিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নগদ ২৪ লাখ টাকা( জন প্রতি ১২ লাখ) তুলে দেওয়া হয় বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উক্ত রাতে নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের প্রযুক্তিগত তথ্য বা লোকেশন ডাটা (GPRS Location Data) নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করলেই এই নৈশ বৈঠকের প্রকৃত রহস্য ও সত্যতা উন্মোচিত হতে পারে।
দলিল লেখক সমিতিতে চাঁদাবাজি ও পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ
এদিকে উপজেলা বিএনপির পদ ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ কেবল স্বাস্থ্য বিভাগেই সীমাবদ্ধ নয়। মনোহরদী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতিতে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে মনপছন্দ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত পকেট কমিটির মাধ্যমে দলিলপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা মাস শেষে আনুমানিক ২৬ থেকে ২৮ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেনে রূপ নেয়।

জনমনে প্রশ্ন: দায় এড়াতে পারবে কি শীর্ষ নেতৃত্ব?
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার, সুশাসন ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখছে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে একশ্রেণীর নেতার এমন বেপরোয়া আচরণে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মনোহরদীর সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—দলের পদ-পদবি ও প্রভাব ব্যবহার করে এমন বেআইনি অর্থনৈতিক তৎপরতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক, স্থানীয় সাবেক

সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসন কি দায় এড়াতে পারেন?
বক্তব্য ও আইনি অবস্থান
সরকারি চাকরিতে বদলি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে অনৈতিক লেনদেন বা মধ্যস্থতা করা আইনের চোখে মারাত্মক অপরাধ। তবে অভিযোগসমূহের বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনোহরদীবাসীর জোর দাবি, স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেট রক্ষা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চাঁদাবাজির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন