বিশ্বকাপজয়ীদের মিলনমেলা, উচ্ছ্বাস ও হৃদয়ভাঙা মঞ্চে যেভাবে অবসরে মেসি
‘এসো, এসো... আমার সাথে গাও... তুমি একজন বন্ধু পাবে... হাতে হাত রেখে... লিও মেসির সাথে... আমরা সবাই জয়ের আনন্দ উদযাপন করতে যাচ্ছি।’ আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে বিদায় দিতে আসা ভক্তরা এভাবেই কোরাস মিলিয়ে গাইছিলেন এস্তাদিও মনুমেন্তালে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসরে যেন উচ্ছ্বাস আর হৃদয়ভাঙার মিশ্র অনুভূতি তৈরি হলো। যেখানে মিলনমেলা বসেছিল ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মেসিকে শেষবারের মতো মাঠে নামার জন্য রাজি করিয়েছিল, যাতে তিনি ‘উপযুক্ত বিদায়’ পেতে পারেন। বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে দর্শক ধারণক্ষমতা ৮৫ হাজারেরও বেশি। যেখানে মেসির বিদায় ম্যাচের টিকিট মাত্র ৯০ মিনিটেই বিক্রি হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুনঃবিক্রয়ের ওয়েবসাইটে প্রতি টিকিটের দাম ২৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। আর্জেন্টিনার ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়েরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এই সম্মাননা আয়োজনে অংশ নেন।
এর আগে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছিলেন, মেসি মনুমেন্তালে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি অবিস্মরণীয় হয়ে উঠবে। অবশ্য তার আগে থেকেই রোমাঞ্চের শুরুটা হয়েছিল। টিম বাসে করে আজ (বুধবার) ভোরে মাঠে যাওয়ার পথে মেসি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। তার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন হাজারও মানুষ। তাদের উচ্ছ্বাস দেখে আবেগাপ্লুত মেসিকে চোখ অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ মানুষকে বাসের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেকেই মেসিকে কাছ থেকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাস্তায় নেমে আসেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দেরিতে স্টেডিয়ামে পৌঁছায় আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের বাস। এ ছাড়া শুরুর আনুষ্ঠানিকতা মিলিয়ে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরুর কথা থাকলেও, খেলা গড়ায় আধাঘণ্টা পরে। কিক-অফের আগে মাঠকর্মীরা আর্জেন্টিনার একটি সুবিশাল ‘১০ নম্বর’ জার্সি মাঠে বিছিয়ে দেন। তবে সেই জার্সিতে মেসির নামের পরিবর্তে লেখা ছিল ‘গ্রেসিয়াস’ বা ধন্যবাদ। তখন তার নামে স্লোগানে মাঠ কাঁপিয়ে তোলে দর্শকরা।
জাতীয় সঙ্গীতের সময়ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। যেন তার কণ্ঠরোধ হয়ে আসে! আর্জেন্টাইন মহাতারকার সঙ্গে ছিল তিন ছেলে– থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো। আর স্টেডিয়ামজুড়ে চলছিল আতশবাজির ঝলকানি। গ্যালারির দর্শকেরা সুর মিলিয়ে গাইতে থাকেন– একইসঙ্গে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ডস) আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার নিয়ে ফাবিও সান্তানার কণ্ঠে পরিবেশিত হয় আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীত। সবাই অত্যন্ত আবেগ ও উদ্দীপনার সঙ্গে তাতে কণ্ঠ মেলায়। খেলার শুরুতে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কেউ কেউ উপহার দেন মেসিকে।
শুরু হয় মেসির বিদায়ী ম্যাচ। আফ্রিকান দেশ বেনিনের মুখোমুখি ২০২২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ও ২০২৬ আসরের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা। মেসির সম্মানে দশম মিনিটে খেলা থামান রেফারি। দর্শক দুই মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে হাততালি আর ‘ওলে ওলে মেসি’ স্লোগানে তাকে অভিবাদন জানায়। তখন আরেক দফা আতশবাজির বিচ্ছুরণ ঘটে। আর মাঠে থাকা ফুটবলাররা এসে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানান মেসিকে।
বিজ্ঞাপন

এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে জাতীয় দলের শেষ ম্যাচটা আরও অবিস্মরণীয় করে রাখলেন এলএমটেন। ম্যাচশেষের সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোনের চমৎকার প্রদর্শনী ফুটে ওঠে। শেষটা হয় ‘গ্রেসিয়াস লিও‘ বা ধন্যবাদ লিও লেখার মধ্য দিয়ে। মেসির বিদায়ী বক্তব্যের আগে আরেকবার ড্রো শো ও অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীত পরিবেশনা। গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তি তার জনপ্রিয় গান ‘ব্রিনদিস’ পরিবেশন করেন। সংগীতের সময় মেসিকে হাসতে দেখা গেছে। উপভোগ্য হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। শেষে মেসির বিদায়ী বক্তব্যে নামে আবেগের বিস্ফোরণ!
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: