• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আগষ্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

জেলায় প্রথম, বিভাগে দ্বিতীয় আত্রাইয়ের মানসী; স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪৫ পিএম;
জেলায় প্রথম, বিভাগে দ্বিতীয় আত্রাইয়ের মানসী; স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার

এবারে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে নওগাঁ জেলায় প্রথম এবং রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জণ করেছেন মানসী সরকার। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২২৩ নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এই গৌরব অর্জণ করেন তিনি। মানসী সরকার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আত্রাই বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল আ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চান। মানসী সরকার উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা আত্রাই মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার সরকার ও মধুগুড়নই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মল্লিকারানী মজুমদার দম্পতির মেয়ে।

‎আত্রাই বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ বুলবুল হোসেন বলেন,বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষায় ৯৭জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৮৯জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে মানসী সরকারসহ ৩৮জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তিনি বলেন,মোট ১২৫০ নম্বরের মধ্যে মানসী সরকার ১২২৩নম্বর পেয়ে গৌরবের সাথে নওগাঁ জেলায় প্রথম এবং রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জণ করেছে। তিনি আরো বলেন,মানসী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। মানসীর অসাধারণ ফলাফলে শুধু তার পরিবার একা নয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার এই অর্জণ আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো কিছু করবে বলে আমরা আশা করছি।

‎মানসীর বাবা প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, আমার ২জন সন্তান। এর মধ্যে মানসী বড়। আর ছোট ছেলে অভিরুপ সরকার অংকন ৪র্থ শ্রেনীতে পড়া লেখা করে। তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই পড়া লেখার প্রতি মানসীর আলাদান একটা আগ্রহ ছিল। সে নিজে থেকেই সময় করে নিয়ে পড়া লেখা করতো। কখনো গভীর রাত পর্যন্ত পড়া লেখা করে সকালে একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠতো আবার কখনো দিনের বেলায় পড়া লেখা করেই রাতে ঘমিয়ে পড়তো। আমরা তার পড়া লেখায় নির্দিষ্ট কোন সময় দেখিনিএবং পড়া লেখার জন্য কখনো তাগাদা দিতে হয়নি। তিনি আরো বলেন,অনেক শিক্ষার্থীরা মোবাইল নিয়ে ব্যবস্ত থাকে।  কিন্তু মানসী কখনো সেটা করেনি। কোন তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই সময়ই কাছে মোবাইল রাখতো। এছাড়া পড়া লেখার পাশাপাশি সংসারের কাজে তার মাকেও সময় দিতো। তিনি বলেন,মানসীর এই অর্জণ তার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নওগাঁর শিক্ষাঙ্গনের জন্যও গর্বের। তার এই সাফল্য ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফল অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এছাড়া মানসীর ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণ ও ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
‎মানসী সরকার বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিৎ ভবিষ্যতের লক্ষস্থীর করে পড়া লেখা করা। বাবা-মা বা শিক্ষকদের কিম্বা আত্মীয় স্বজনদের চাপে নয়,নিজে থেকে জানার আগ্রহ নিয়ে পড়া লেখা করতে হবে। অভিভাক এবং শিক্ষকদের দিক নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিজের সু-পরিশ্রমেই ভাল সাফল্য আসে। তিনি বলেন,ছোট বেলা থেকেই ভাবতাম পড়া লেখা করে প্রকৌশলী হয়ে দেশের তথা দেশের মানুষের সেবা করবো।আপনাদের দোয়ায় সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেনো আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন