মরে যাওয়া আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করলেন হাইকোর্ট
২০১৩ সালে শেরপুরে আদিবাসী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় দুঃসম্পর্কের মামা কান্তি মারাককে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ গত ১ জুলাই বহাল রেখেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু পরে জানা যায়, আসামি কারাগারে মারা গেছেন।
বিষয়টি আদালতের নজরে আনায় বুধবার (১২ আগস্ট) হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাহার করে মামলাটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার বাসিন্দা ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়। ওইদিন বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে প্রতিবেশীর কান্তি মারাকের ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ থাকা হাফপ্যান্ট পাওয়া যায়। পরে আসামির বসতবাড়ির পাশে পানি সেচের ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মৃতদেহ।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা কান্তি মারাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর কান্তি মারাক আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন।
এ মামলায় বিচারিক আদালতে বিচার শেষে ২০১৯ সালে কান্তির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। তা অনুমোদনের জন্য ওই বছরেই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাই কোর্টে আসে।
কিন্তু এর মধ্যেই ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি কান্তি মারাকের মৃত্যু হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করে কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন তারেক বলেন, কান্তি মারাকের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
তিনি বলেন, রায় ঘোষণার পর কান্তি মারাকের মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের নজরে আনে।
ইমাম হোসেন বলেন, শুধু সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আদালত আগের রায় প্রত্যাহার করতে পারেনি। কারণ এটি মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্সের মামলা ও আসামির মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ কাশিমপুর কারাগারের জেলারের কাছে চিঠি দিয়ে কান্তি মারাকের মৃত্যুর তারিখ, কারণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চায়।
পরে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক চিঠির সঙ্গে মৃত্যুসনদ পাঠিয়ে ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি কান্তি মারাকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩১ ধারার আলোকে আসামির মৃত্যুর সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রমও শেষ হয়ে যায়।
হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে তখনো বিচারকদের স্বাক্ষর হয়নি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফলে সেটি আদালতের এখতিয়ারের মধ্যেই ছিল এবং আদালত সেটি প্রত্যাহার করতে পেরেছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / আদালত প্রতিবেদক
- বিষয়:
- মৃত্যুদণ্ড
- আদালত
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: