রাণীনগরে অভিযানে গিয়ে লাঞ্চিত পুলিশের দুই কর্মকর্তা
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর রাণীনগরে মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্চিতের শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিজয়কান্দি (বড়বড়িয়া) রেলক্রসিং এলাকায় এঘটনা ঘটে। এঘটনায় রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে এজাহার নামীয় তিন জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
রাণীনগর থানার এসআই রতন কুমার জানান,বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন টিমে ভাগ হয়ে উপজেলা জুরে মাদকবিরোধী বিশেষঅভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসময় তিনি এএসআই ওবাইদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাত অনুমান ৯টা নাগাদ উপজেলার বিজয়কান্দি এলাকায় অভিযানে যান। এসময় বিজয়কান্দি অস্থায়ী রেলগেট এলাকায় পৌছলে ওই জায়গায় মোটরসাইকেল রেখে তিনজন লোক দারিয়ে আছে দেখতে পেয়ে তাদেরকে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় দুইজন ভালভাবে নাম ঠিকানা বললেও আশিক (২৩) নামের এক যুবক নাম ঠিাকান বলতে অসিকৃতি জানিয়ে পুলিশের সাথে তর্কে জরিয়ে পরে এবং এক পর্যায়ে চরাও হয়ে ওঠে। এরপর আশিক হোসেন বাড়ীতে তার মায়ের কাছে ফোন করে লোকজনকে সাথে নিয়ে আসতে বলে। এর কিছুপর তার মা চায়না বেগম(৫০) বেশ কিছু লোকজন নিয়ে এসে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে চোর বলে আখ্যায়িত করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আশিক ও তার মা চায়না বেগমসহ বেশ কিছু লোকজন দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কিল-ঘুষিসহ শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান,আশিক ও তার মায়ের নেতৃত্বে আমাদের ওপর ‘মব‘ সৃষ্টি করে জনতাকে উসকে দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে। আশিক উপজেলার বিজয়কান্দি (বড়বড়িয়া) গ্রামের কেয়ারব সোনারের ছেলে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন,সম্প্রতি বিজয়কান্দি গ্রাম থেকে চারটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোর ধরতে এবং মাদক কারবারীদের ধরতে বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযানকালে বিজয়কান্দি রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশের কাজে বাধা দেয়াসহ দুই কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে। এঘটনায় আশিক ও তার মা চায়না বেগমসহ এজাহার নামীয় ৩জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামী করে রাতেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে রাতভর অভিযান চালিয়েও কাউকে গ্রেফতার করা না পারলেও জরিতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: