সরকারি ফি ১,১৭০ টাকা, দাবি ৭০ হাজার! রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসে ঘুষের অভিযোগ
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক সেবাপ্রত্যাশীর অভিযোগ, চারটি নামজারির জন্য তাঁর কাছে প্রথমে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। পরবর্তীতে দর-কষাকষির মাধ্যমে তা কমিয়ে ২০ হাজার টাকায় রফাদফা করা হয়। ইতোমধ্যে ঘুষের নগদ টাকা লেনদেন ও তা গোনার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে অভিযুক্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ২০ মে ভূমি মেলার সময় ছয়টি দলিলের নামজারির কাজের জন্য তিনি রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহানের শরণাপন্ন হন। তাঁর অভিযোগ, শুরুতেই ওই কর্মকর্তা ছয়টি নামজারির জন্য ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে নানা দর-কষাকষির একপর্যায়ে দুটি দলিল বাদ দিয়ে কেবল চারটি নামজারির জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।
মহিউদ্দিনের দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী তিনি ওই কর্মকর্তাকে নগদ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি ১০ হাজার টাকা কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর চারটি আবেদন আজও নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে শুধু একটি নামজারি সম্পন্ন হলেও বাকি আবেদনগুলো ফাইলবন্দি হয়ে ঝুলে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে এই প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, এক ব্যক্তির হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং ওই ব্যক্তি পরম যত্নে সেই টাকা গুনে নিজের কাছে রাখছেন। ভিডিওটিতে নামজারি ও অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন কথোপকথনও স্পষ্ট শোনা গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি নির্ধারিত ফিতে একটি নামজারি সম্পন্ন করতে মাত্র ১ হাজার ১৭০ টাকা খরচ হওয়ার কথা। সে হিসেবে চারটি নামজারির জন্য সরকারি ফি যেখানে মাত্র ৪ হাজার ৬৮0 টাকা আসার কথা, সেখানে এর বিপরীতে ২০ হাজার টাকা দাবির বিষয়টি সরকারি সেবামূলক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, মহিউদ্দিন খন্দকার নামের কেউ তাঁর কাছে আসেননি এবং তাঁর দপ্তরে কোনো কাগজপত্রও জমা দেননি। এমনকি এ ধরনের কোনো অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।
সেবাপ্রত্যাশীদের মতে, নামজারির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা পেতে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ দাবির অভিযোগের সত্যতা একমাত্র নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হতে পারে। এ ঘটনায় দ্রুত যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: