• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

মিষ্টি হাসির আড়ালে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: বাকেরগঞ্জের সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজকে ঘিরে তোলপাড়।।


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩৬ পিএম;
মিষ্টি হাসির আড়ালে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: বাকেরগঞ্জের সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজকে ঘিরে তোলপাড়

নজরুল ইসলাম আলীম:

 

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম এবং প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইটভাটা মালিক, অফিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ বাসিন্দাদের অভিযোগ—বিভিন্ন সরকারি কাজ, বিল উত্তোলন, বেতন ভাতা ছাড় এবং প্রশাসনিক সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলকভাবে টাকা দিতে হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা কার্যালয়ের অফিস স্টাফদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা হতো। সরাসরি অর্থ লেনদেন না করে কার্যালয়ের কর্মচারীদের ব্যবহার করে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।কলসকাঠি ইউনিয়ন ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির মীরা বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই ইউএনও’র সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হতো। সরকারি নম্বর ছাড়াও তার ব্যক্তিগত নম্বর আমার কাছে ছিল। বিভিন্ন কাজেই তাকে প্রয়োজন হতো।” সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনারা আবার আমার কথা রেকর্ড করেন নাকি?”—যা স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। তাদের দাবি, ইউএনও রুমানা আফরোজের নির্দেশেই উপজেলা কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা এই অর্থ সংগ্রহ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাহ্যিক সৌজন্য আর ‘মিষ্টি মুখের হাসি’র আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে চলেছে দুর্নীতির এই সংস্কৃতি। সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক সেবা নিতে গিয়ে বারবার হয়রানি ও আর্থিক চাপে পড়েছেন।
এদিকে অভিযোগের মুখে থাকা ইউএনও রুমানা আফরোজ ইতোমধ্যে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তার নতুন কর্মস্থলের সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্মসচিব) মোঃ আহসান হাবিব বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এমন অভিযোগ জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন