• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বোয়ালমারীতে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, দোকান ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ২০


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:২৯ পিএম;
বোয়ালমারীতে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, দোকান ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ২০

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

 


বোয়ালমারীতে বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে দোকান এবং বাড়িতে হামলা-ভাংচুড়ের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহত হয়েছেন অন্ততঃ ২০জন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে যোগদানকারী স্থানীয় চেয়ারম্যানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি দোকান ও বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের প্রায় ২২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে ২০২০ সালে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানপক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

এই ঘটনার জেরে শনিবার বিকেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানপক্ষের সমর্থকরা চরপাড়া বাজার এলাকায় এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় ছিরু মাতুব্বর নামের এক ব্যবসায়ীর সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

 এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা দাবী করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রতিপক্ষ বিল্লাল হোসেন মোল্যা বলেন, হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও তিনি জমির দখল নিতে পারেননি। বর্তমানে ওই জমি চেয়ারম্যান পক্ষের দখলে রয়েছে। হামলার ঘটনায় তিনি বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ী ছিরু মাতুব্বর অভিযোগ করেন, তার সারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, তাঁর বাজারের দোকানে অন্যায় ভাবে তালা লাগানো হয়েছে এবং তার লোকজনকে উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তার প্রতিপক্ষের লোকজনই ভাঙচুর করে অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন