• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

শতভাগ টিকার পরও লাগামহীন হাম, এখন পর্যন্ত ৪৭৮ জনের মৃত্যু


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৪৭ পিএম;
শতভাগ টিকার পরও লাগামহীন হাম, এখন পর্যন্ত ৪৭৮ জনের মৃত্যু

দেশব্যাপী হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকার দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ১২ এপ্রিল ৪টি সিটি কর্পোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী সর্বাত্মক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

বিশেষ এই কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১০১ শতাংশ) টিকা প্রদান করা হলেও প্রতিদিন হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি নতুন রোগী হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

অবশ্য ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হামের ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়ার পর শরীরে এর কার্যকারিতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশেষ উদ্যোগের ফলে আক্রান্তের হার কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরুর এক সপ্তাহের মাথায়, অর্থাৎ গত ২৭ এপ্রিল লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ টিকা কাভারেজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া, সিটি কর্পোরেশনগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ শতাংশ বেশি টিকা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এর তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পরও প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি রোগী আক্রান্ত হচ্ছে; যেখানে দেশব্যাপী বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২৫১ জন শিশু আক্রান্ত হতো। টিকাদান শুরুর এক মাস পরও আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে না কমায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, টিকার মাঠপর্যায়ের পূর্ণ কার্যকারিতা বোঝার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপরও যদি আক্রান্তের হার নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বর্তমান ভাইরাসটির ধরন বুঝতে ‘জিনোম সিকোয়েন্সিং’ নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বিগত সময়ে এ ধরনের ক্যাম্পেইনের জন্য যেভাবে মাইক্রোপ্ল্যান করে প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতো, এবার তা নিখুঁতভাবে করা হয়নি। যে কারণে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও অনেক শিশু রয়ে গেছে, যারা আসলে টিকা পাওয়ার উপযুক্ত ছিল কিন্তু বাদ পড়েছে। আরেকটি বিষয় হলো, হাম এবার সম্পূর্ণ নতুন নতুন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস্টারে সীমাবদ্ধ থাকলে এটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমটি ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ অর্থাৎ আক্রান্ত এলাকার চারপাশকে বিশেষ কর্ডন করে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ব্যাপক স্থানান্তরের কারণে আক্রান্তের হার আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে অভিভাবকদের বলব, যেসব শিশু শারীরিকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে ভ্রমণ না করাই উত্তম। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা সুস্থ শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়বে।

জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, বর্তমানে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের শরীরে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ করে।

এখন পর্যন্ত হামে ৪৭৮ জনের মৃত্যু

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও ৫ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে দুটি ঢাকা বিভাগে, একটি চট্টগ্রাম বিভাগে এবং বাকি দুটি সিলেট বিভাগে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৮৯ শিশুর মৃত্যু হলো। একই সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৮৯ শিশু। সব মিলিয়ে দেশে মোট ৪৭৮ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

এছাড়া এই দেড় মাসে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৫৪ হাজার ৯১১ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জনের শরীরে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন