• ঢাকা
  • রবিবার, ৩১ আগষ্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

অধরা লুটের ৪১ অস্ত্র, নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগষ্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:২৭ পিএম
অধরা লুটের ৪১ অস্ত্র, নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জ থেকে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল, তার বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যসহ সচেতন নাগরিক সমাজ। 

সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে ঘিরে দেশের ৬৬৪টি থানার মধ্যে ৪৬০টি থানা ও ১১৪টি ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ঘটনা ঘটে। 

সবশেষ হিসাব বলছে, এখনো ১ হাজার ৩৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭২০ রাউন্ড গোলাবারুদ বেহাত অবস্থায় রয়েছে।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন, সিদ্দিরগঞ্জ থানা এবং আড়াইহাজার থানা, গোপালদী তদন্ত কেন্দ্র ও কালাপাহাড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে লুট হয় ১৫১টি অস্ত্র এবং ৯০২৫ রাউন্ড গুলি। যার মধ্যে ছিল চাইনিজ রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তলসহ প্রায় ৭ ধরনের বিভিন্ন বোরের অস্ত্র।

 নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে ১১০টি বিভিন্ন বোরের অস্ত্র এবং ১৫০৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা গেলেও বাকি ৪১টি অস্ত্র এবং ৭৫১৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্র হাতবদল হয়ে সন্ত্রাসীদের কাছে যেতে পারে বলে মনে করছেন নাগরিক মহল।

অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থতা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রগুলো এখন দুর্বৃত্তদের হাতে। একদিকে যেমন এসব অস্ত্র দিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অস্ত্রগুলো অপরাধীদের কাছে রয়েছে। অপরাধীরা কোনো দলের হয় না, তাই তাদের কাছে অস্ত্র থাকা সবার জন্য ভয়ের কারণ। এসব অস্ত্র তাদের কাছে থাকলে, নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে শক্তি খাটিয়ে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রশাসনের উচিত হবে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্রগুলো সব দুর্বৃত্তদের হাতে আছে।

সামনে নির্বাচন, এই অস্ত্রগুলো যদি উদ্ধার না হয়, তাহলে যেকোনো ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আসলে এ পর্যন্ত প্রশাসন কোনো অস্ত্রই নিজেরা উদ্ধার করতে পারেনি, যারা স্বেচ্ছায় দিয়ে গেছে শুধু সেই অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়েছে। তাই প্রশাসনের উচিত নিজেদের গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী সভাপতি আব্দুল জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের সার্বিক নিরাপত্তা এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যূষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘লুট হওয়া বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে, পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জনগণের কাছ থেকেও আমরা সহযোগিতা আশা করছি, লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর বিষয়ে আমাদের তথ্য দিন।’

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন