• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

আমতলীতে ১৫ টাকার চালের কার্ড নবায়নে ২০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৩৩ পিএম;
আমতলীতে ১৫ টাকার চালের কার্ড নবায়নে ২০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ

হাফিজ খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড নবায়নের নামে ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। খাদ্য অফিসের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ডিলারকে অবরুদ্ধ করেন উপকারভোগীরা। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ডিলার হলেন চাওড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার এবং চাওড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন সিপাহী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত উপকারভোগীরা প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে চাল কিনে থাকেন। চলতি বছর পুরোনো কার্ডের লেখার ঘর শেষ হয়ে যাওয়ায় উপকারভোগীদের কার্ড নবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাওড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মোট ৪২২ জন উপকারভোগী রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চাল বিতরণের সময় ডিলার হারুন সিপাহী পুরোনো কার্ডের সঙ্গে নতুন কার্ড নবায়নের কথা বলে প্রত্যেক উপকারভোগীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করেন। এ সময় ১২৩ জন উপকারভোগীর কাছ থেকে মোট ২৪ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিজাম মল্লিকের নজরে এলে তিনি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে জানানো হয়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড নবায়নের জন্য উপকারভোগীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়ার কোনো অনুমতি বা সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উপকারভোগীরা ডিলার হারুন সিপাহীকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে ১২৩ জন উপকারভোগীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকার দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনিয়ম ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে চাওড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হারুন সিপাহী বলেন, “১২৩ জনের কাছ থেকে অফিসের কার্ডের খরচ হিসেবে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।

পরে সব টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তবে কার্ড নবায়নের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন আমতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, “কার্ডপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়ার জন্য আমি কোনো নির্দেশনা দিইনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ড নবায়নের জন্য উপকারভোগীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার বিধান নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দরিদ্র মানুষের জন্য নির্ধারিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কার্ড নবায়নসহ কর্মসূচির কোনো কার্যক্রমে যাতে উপকারভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করা হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন