আবারও বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাকের রং। কেমন হলো নতুন এই পোশাক?
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের নকশা ও বিধিমালায় পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে নতুন নকশার একটি নমুনা পোশাকও প্রবর্তন করা হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এই চিঠির একটি অনুলিপি এবং নতুন নকশার পোশাকের ছবি সংগ্রহ করেছে। 'এসআরও নম্বর ১০৯-আইন/২০২৫'-এর অধীনে পেশ করা এই প্রস্তাবে পুলিশের বর্তমান পোশাক বিধির সংশোধনীর রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এতে কাপড়ের ধরন, রং এবং সামগ্রিক নকশায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাহিনীর পোশাকে আধুনিকতা আনার পাশাপাশি একরূপতা ও ব্যবহারিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যবহৃত 'ডিপ গ্রে টিসি' শার্ট ও 'ডার্ক ব্লু টিসি ড্রিল' প্যান্ট এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যবহৃত 'লাইট অলিভ টিসি' শার্টের পরিবর্তে নতুন সংস্করণ আনা হবে। নতুন নকশায় 'আয়রন টিসি' (সাধারণ কাপড়) এবং 'কফি (শেল) টিসি টুইল' কাপড়ের শার্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে সব ইউনিটের জন্য মানসম্মত 'টিসি টুইল খাকি' প্যান্ট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ১৩ বছরের পথচলায় দৈনিক পুনরুত্থান
নতুন এই প্রস্তাবিত পোশাকের ছবি সামনে আসার পর পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েক দশকের পুরোনো খাকি রঙের প্যান্ট ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে টিবিএসকে জানিয়েছেন।
নতুন নকশায় টিল-গ্রিন (নীলাভ সবুজ) এবং গাঢ় নেভি ব্লু রঙের হাফহাতা শার্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। শার্টগুলোতে কাঁধের অ্যাপোলেট, এমব্রয়ডারি করা ব্যাজ, সার্ভিস রিবন এবং নেমপ্লেট যুক্ত থাকবে। কর্মকর্তাদের শার্টের সঙ্গে আইডি কার্ড, কালো বেল্ট এবং পালিশ করা কালো বুট পরতে দেখা গেছে। খাকি প্যান্টগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কর্মকর্তাদের আরও স্মার্ট ও পেশাদার দেখায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ের মতামত এবং বিভিন্ন ইউনিটের নমুনা মূল্যায়নের পর এই ইউনিফর্ম তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে আরামদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী পোশাক নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে 'পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫'-এর ৪ ও ৭ নম্বর বিধি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) সারওয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান বাজেটের মধ্যেই এই পরিবর্তন সম্পন্ন করা হবে, ফলে আলাদা কোনো আর্থিক চাপের সৃষ্টি হবে না।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: