সিগারেটের মূল্য সর্বনিম্ন ১০০ এবং সর্বোচ্চ ২০০ টাকা করার প্রস্তাব
জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তামাকে আরও কড়াকড়ি চায় দুটি সংগঠন। বিড়ি-সিগারেটে নিরুৎসাহিত করতে প্রতি ১০ শলাকার দর ন্যূনতম ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে তারা। আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাকক্ষে প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব ওঠে। কর্মসূচিটি আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ‘প্রগতির জন্য জ্ঞান’ (প্রজ্ঞা) ও ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স’ (আত্মা)।
দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম আয়োজন হওয়ায় আগেভাগেই শুরু হয়েছে আলোচনা। ভিন্ন ভিন্ন খাত নিয়ে প্রস্তাব ও পরামর্শ জানাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন।
প্রজ্ঞা ও আত্মা চায়, আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর চার থেকে আসুক তিনটিতে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন ছাড়াও যেন বাড়ে সব ধরনের তামাকপণ্যের মূল্য।
সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০, উচ্চ স্তরে ১৫০ ও প্রিমিয়াম ২০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ এলো সংবাদ সম্মেলনে।
তামাক কর ও মূল্যবিষয়ক বাজেট প্রস্তাব সমর্থন করলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর। বললেন, বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের ভোক্তা। এই দুই স্তর একত্রিত করে মূল্যস্তর সংখ্যা বিদ্যমান চার থেকে তিনটিতে নামালে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে ধূমপানে।
‘সিগারেট করকাঠামোয় প্রস্তাবিত সংস্কার হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বর্ধিত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ মোকাবিলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হকের।
‘তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করপদ্ধতি প্রবর্তন হলে ব্যবস্থাটি আরও সহজ ও কার্যকর হবে’— যোগ করলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব।
জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপেরও সুপারিশ এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে উঠল সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহালের প্রস্তাব।
জরিপের তথ্য উল্লেখ করে সংস্থা দুটি জানাল, বাংলাদেশে বছরে তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু ঘটে প্রায় ২ লাখ মানুষের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে রাজস্ব এসেছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মনির হোসেন লিটন, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: