• ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

মহম্মদপুরে খুলনা বিভাগের প্রথম  দৃষ্টিনন্দন আধুনিক মডেল মহাশ্মশান


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩৯ পিএম;
মহম্মদপুরে খুলনা বিভাগের প্রথম  দৃষ্টিনন্দন আধুনিক মডেল মহাশ্মশান


   বিশেষ প্রতিনিধি মহম্মদপুর(মাগুরা) : ১৮অক্টোবর২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ


মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়ায় নবগঙ্গা নদীর তীরে শান্ত, স্নিগ্ধ ও মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে খুলনা বিভাগের প্রথম মডেল মহাশ্মশান।  দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহাশ্মশানটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়া।
পরিবারের প্রিয়জনের শেষকৃত্য ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্য  সম্পন্ন করার জন্য পরিচ্ছন্ন, উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয়েছে এ মহাশ্মশান। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে যে ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের, নতুন এ স্থাপনা সেই সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে  বলে জানান স্থানীয়রা। সংযোগ সড়কসহ ২৩ দশমিক ৫ শতক জমির ওপর নির্মিত মহাশ্মশানটিতে ব্যবহার করা হয়েছে  আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী। বিনোদপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি মাগুরা সদরসহ উপজেলার আসপাশ থেকেও শবদেহ এনে এখানে সৎকার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২ রা  মার্চ মহাশ্মশানটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর এটি হস্তান্তর করা হয়।  
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (জিএসআইডি-২)-এর আওতায় ২কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ২১৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। 
মহম্মদপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক শ্রী কানু তেওয়ারী বলেন, খুলনা বিভাগের মধ্যে মাগুরা জেলার  প্রত্যান্ত অঞ্চল মহম্মদপুরে এমন একটি দৃষ্টিনন্দিত মহাশ্মশান স্থাপন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সৎকারের বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে জানাচ্ছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. উত্তম কুমার সাহাকে, যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ আমরা খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম ও দৃষ্টিনন্দন  এ মডেল মহাশ্মশানটি পেয়েছি। 
বিনোদপুর ভাবনপাড়া মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেশ কুমার সাহা জানান, মহাশ্মশানটিতে রয়েছে দুটি চিতাবেদি, প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার নান্দনিক শিবমন্দির, অফিস ভবন, মৃতের স্নান কক্ষ, স্টোররুম, দুটি শৌচাগার, রন্ধনশালা এবং সেবায়েত ও কেয়ারটেকারের আবাসিক কক্ষ। পুরো স্থাপনাটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।
তিনি বলেন, স্থাপত্যশৈলী ও মনোরম পরিবেশের কারণে মহাশ্মশানটি এখন শুধু সৎকারের স্থান নয়, দর্শনার্থী ও ভক্তদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে এটি দেখতে আসছেন।
মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি হরশিত কুমার সাহা বলেন, “পরিপাটি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এমন একটি মডেল মহাশ্মশান আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। এটি পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”
খুলনা বিভাগের প্রথম এই মডেল মহাশ্মশান এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন