• ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

মহাঅষ্টমীতে দূর্গোৎসবে বড়নগর সাহা বাড়ির পূজামন্ডপে আলোর ঝলকানী; অন্যতম আকর্ষণ ''কুমারী পূজা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৩৬ এএম;
মহাঅষ্টমীতে দূর্গোৎসবে বড়নগর সাহা বাড়ির পূজামন্ডপে আলোর ঝলকানী; অন্যতম আকর্ষণ ''কুমারী পূজা

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

 

শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা ঘটিয়ে ষোড়শোপচারে সপ্তমী পূজার সমাপনান্তে আজ মর্ত্যধামে নেমে এসেছে মহাশক্তির পূর্ণ রূপ—শুভ মহাঅষ্টমী। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ধরণীতে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর সাহা বাড়িতে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল আচার ও মহাধুমধাম। আলোকচ্ছটা আর মঙ্গলধ্বনি দিয়ে সাজিয়ে তোলা সাহা প্রাঙ্গণে এখন বইছে এক আনন্দমুখর স্বর্গীয় আবাহ।


মহাষ্টমী পূজার সময় ও নির্ঘণ্ট

* অষ্টমী তিথি শুরু: ১৮ অক্টোবর, রবিবার সকাল ৮:২৭ মিনিট।
* অষ্টমী তিথি সমাপ্তি: ১৯ অক্টোবর, সোমবার সকাল ১০:৫১ মিনিট।
* কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা: ১৯ অক্টোবর সকাল ৭:৪৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে (গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে)।
* পুষ্পাঞ্জলি প্রদান: অষ্টমী তিথি চলাকালীন অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর সকালের মধ্যে মণ্ডপের নিয়ম অনুযায়ী অঞ্জলি দেওয়া যাবে।
* সন্ধিপূজার সময়: ১৯ অক্টোবর সকাল ১০:২৭ মিনিট থেকে বেলা ১১:১৫ মিনিট পর্যন্ত (অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট)।
আজকের অন্যতম আকর্ষণ 'কুমারী পূজা'। এ উপলক্ষে সাহা বাড়ি পূজা মন্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্মণীয়।
​ ঢাকের দেববাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা, আরতির ধূপের সুবাস এবং 'মা দুর্গার জয়' ধ্বনিতে সমগ্র বড়নগর এলাকা এক মহাদেবময় পরিবেশে রূপ নিয়েছে।
​বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি, কয়ড়া কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও খ্যাতিমান সমাজহিতৈষী সুবাস সাহা-র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় বড়নগর সাহা বাড়ির এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ এবং আকর্ষণীয় ধর্মীয় মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাহা বাড়িতে আড়ম্বর ও ভক্তিসুধার কোনো কমতি নেই। সুবিশাল মণ্ডপ সজ্জা, বর্ণিল আলোর রোশনাই এবং প্রবেশদ্বারে তৈরি নান্দনিক তোরণ পুরো এলাকাকে এক স্বপ্নিল মহিমায় ভাসিয়ে দিয়েছে।
​দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো ভক্তের পদচারণায় দিনভর প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত। বর্ণভেদ ও শ্রেণিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের পুণ্যার্থী দর্শনার্থীরা একযোগে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং ভক্তিভরে প্রসাদ গ্রহণ করেন। ভক্তদের সুশৃঙ্খলভাবে দর্শন ও আতিথেয়তার জন্য সাহা পরিবারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়োজিত রয়েছে।
​উৎসবের সার্বিক তাৎপর্য তুলে ধরে হিন্দু মহাজোটের শীর্ষ নেতা ও আয়োজক সুবাস সাহা বলেন:
​"শারদোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি পরম করুণাময়ীর চরণে মানবজাতির কল্যাণ কামনার পরম সুযোগ। দেবী দুর্গার আগমন ঘটে মর্ত্যলোকের সর্বপ্রকার অশুভ ও অকল্যাণ দূর করতে। আমরা এই পূজার মাধ্যমে নিজেদের ইহলৌকিক প্রগতি ও পরলৌকিক মুক্তির পাশাপাশি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সকল নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সোহার্দ্য কামনা করে প্রার্থনা জানাচ্ছি।"
​প্রতিপদের সূচনা থেকে নবমীর মহাসেবা এবং দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষণ যেন সুশৃঙ্খল ও ভক্তিপূর্ণ থাকে—সেই লক্ষ্যে সাহা বাড়ির প্রাঙ্গণজুড়ে নেওয়া হয়েছে নিবিড় ব্যবস্থাপনা। শারদীয় এই দেবীর আবাহনে বড়নগর সাহা বাড়ি আজ কেবল ফরিদপুরের নয়, পুরো অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ঐক্য ও পরম আনন্দের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন