ষষ্ঠী শেষে মহাসপ্তমী: সুবাস সাহার সুনিপুণ বিন্যাসে আলোকোজ্জ্বল বড়নগর সাহা বাড়ি
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা ঘটিয়ে ষোড়শোপচারে ষষ্ঠী পূজার সমাপনান্তে আজ মর্ত্যধামে নেমে এসেছে মহাশক্তির পূর্ণ রূপ—শুভ মহাসপ্তমী। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ধরণীতে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর সাহা বাড়িতে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল আচার ও মহাধুমধাম। আলোকচ্ছটা আর মঙ্গলধ্বনি দিয়ে সাজিয়ে তোলা সাহা প্রাঙ্গণে এখন বইছে এক আনন্দমুখর স্বর্গীয় বাতাস।
শনিবার (১৭ অক্টোবর, ২০২৬) দুর্গাপূজার নির্ঘণ্ট ও পঞ্জিকামতে ভোর ৫টা ৫৪ মিনিটে মহাসপ্তমী তিথির শুভ সূচনা ঘটে। তিথির সূচনালগ্নেই বৈদিক আচার অনুযায়ী 'নবপত্রিকা' বা কলাবউ স্নান করিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করানো হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও সপ্তমী পূজার বিশেষ সংকল্প সম্পন্ন করেন পুরোহিতবৃন্দ। ঢাকের দেববাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা, আরতির ধূপের সুবাস এবং 'মা দুর্গার জয়' ধ্বনিতে সমগ্র বড়নগর এলাকা এক মহাদেবময় পরিবেশে রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি, কয়ড়া কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও খ্যাতিমান সমাজহিতৈষী সুবাস সাহা-র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় বড়নগর সাহা বাড়ির এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ এবং আকর্ষণীয় ধর্মীয় মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাহা বাড়িতে আড়ম্বর ও ভক্তিসুধার কোনো কমতি নেই। সুবিশাল মণ্ডপ সজ্জা, বর্ণিল আলোর রোশনাই এবং প্রবেশদ্বারে তৈরি নান্দনিক তোরণ পুরো এলাকাকে এক স্বপ্নিল মহিমায় ভাসিয়ে দিয়েছে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো ভক্তের পদচারণায় দিনভর প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত। বর্ণভেদ ও শ্রেণিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের পুণ্যার্থী দর্শনার্থীরা একযোগে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং ভক্তিভরে প্রসাদ গ্রহণ করেন। ভক্তদের সুশৃঙ্খলভাবে দর্শন ও আতিথেয়তার জন্য সাহা পরিবারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক টিম নিয়োজিত রয়েছে।
উৎসবের সার্বিক তাৎপর্য তুলে ধরে হিন্দু মহাজোটের শীর্ষ নেতা ও আয়োজক সুবাস সাহা বলেন:
"শারদোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি পরম করুণাময়ীর চরণে মানবজাতির কল্যাণ কামনার পরম সুযোগ। দেবী দুর্গার আগমন ঘটে মর্ত্যলোকের সর্বপ্রকার অশুভ ও অকল্যাণ দূর করতে। আমরা এই পূজার মাধ্যমে নিজেদের ইহলৌকিক প্রগতি ও পরলৌকিক মুক্তির পাশাপাশি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সকল নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সোহার্দ্য কামনা করে প্রার্থনা জানাচ্ছি।"
প্রতিপদের সূচনা থেকে নবমীর মহাসেবা এবং দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষণ যেন সুশৃঙ্খল ও ভক্তিপূর্ণ থাকে—সেই লক্ষ্যে সাহা বাড়ির প্রাঙ্গণজুড়ে নেওয়া হয়েছে নিবিড় ব্যবস্থাপনা। শারদীয় এই দেবীর আবাহনে বড়নগর সাহা বাড়ি আজ কেবল ফরিদপুরের নয়, পুরো অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ঐক্য ও পরম আনন্দের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: