• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

দশমিনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকার, অংশ নিচ্ছেন নারীরাও


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:০৭ পিএম;
দশমিনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকার, অংশ নিচ্ছেন নারীরাও

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর দশমিনা সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না মা ইলিশ শিকার। পুরুষ জেলেদের পাশাপাশি নারীরাও একাধিক ট্রলার নিয়ে নদীতে নেমেছেন। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চললেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অসাধু জেলেদের জাল ফেলার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমের ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার পাঁচ দিন পার হলেও দশমিনা উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকায় মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, গোলখালী, কাটাখালী, আউলিযাপুর, রণগোপালদী, পাতারচর ও চরবোরহান এলাকার একাধিক পয়েন্টে দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে জেলেরা অবাদ বিচরণ করছেন। এমনকি ধরা পড়া ইলিশ নদীর তীরবর্তী এলাকাতেই বিক্রি করা হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকার তেঁতুলিয়া নদীতে সরেজমিনে গিয়ে ইলিশ শিকারের দৃশ্য দেখা গেছে। এ সময় কয়েকটি ট্রলার থেকে নদীতে জাল ফেলতে দেখা যায়।

স্থানীয় সাধারণ জেলেদের একাংশের অভিযোগ, একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে কিছু জেলেকে নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ করে দিচ্ছে। ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত এসব জেলে দিন-রাতে নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। অন্যদিকে সুযোগ-সুবিধাহীন সাধারণ জেলেরা অভিযান ও জরিমানার মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন সাধারণ জেলে জানান, অভাব-অনটন ও ধারদেনা করে তাঁদের সংসার চলে। কিন্তু তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি অসাধু উপায়ে সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে দশমিনা উপজেলা মৎস্য বিভাগের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তেঁতুলিয়া নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে মূলত একাধিক নারী জেলে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে আসেন। তাঁদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগি বাজার এলাকায়।

আমিরুল ইসলাম আরও জানান, অভিযানের সময় তাঁদের আটক করতে গেলে সঙ্গের কোমলমতি শিশুদের নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাধা সৃষ্টি করা হয়। আর তাদের বেআইনি কাজে বাধা দেওয়ায় মৎস্য বিভাগের বিরুদ্ধে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, "তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় আমি নিজে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করছি। সরকারি নির্দেশ শতভাগ বাস্তবায়নে নৌপুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।" ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে একাধিক জেলেকে আটকসহ বিপুল পরিমাণ জাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন