• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বরগুনার আমতলীতে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫৭ পিএম;
বরগুনার আমতলীতে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু

হাফিজ খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সাদিয়া (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী আল আমিন দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের দাবি, এক সহপাঠীর সঙ্গে বিরোধের জেরে সাদিয়া আত্মহত্যা করেছে। এদিকে স্থানীয় একটি মুদি দোকান থেকে কীটনাশকজাতীয় গ্যাস ট্যাবলেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই পণ্যের বিক্রি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিহত সাদিয়া আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের যুগিয়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী বেলাল হাওলাদারের একমাত্র মেয়ে।

সে ঘোপখালী আল আমিন দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী হাফিজুর হাওলাদার ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সাদিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে বিরক্ত হয়ে সাদিয়া মাদ্রাসার সুপারের কাছে অভিযোগ করে। পরে হাফিজুরকে মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে পরিবার ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে। এরপর হাফিজুর আড়পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখানেও সে বিভিন্ন সময়ে সাদিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করত বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বিষয়টি সাদিয়া তার মা রিমা বেগম ও নানা সোরাফ কবিরাজকে জানায়। পরে তাঁরা হাফিজুর ও তার বাবা ইসহাক হাওলাদারকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের দাবি, মেয়ের বিয়ের বয়স হলে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তখন দুজনকেই লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে বলা হয়েছিল। সাদিয়ার বাবা বেলাল হাওলাদার সৌদি আরব থেকে মুঠোফোনে বলেন, সোমবার (১২ অক্টোবর) হাফিজুরের বাবা ইসহাক হাওলাদার ব্যবসার জন্য তাঁর কাছে টাকা চান। তিনি বাড়িতে কথা বলে পরে জানাবেন বলে ফোন রেখে দেন। ওই রাতেই হাফিজুর সাদিয়ার মায়ের মুঠোফোনে ফোন করে। সে কী কথা বলেছিল, তা তিনি জানেন না। পরদিন সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। সাদিয়ার মা রিমা বেগমের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে অতিরিক্ত ক্লাস করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সাদিয়া। মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে হাফিজুর তার পথরোধ করে। এ সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় মুদি দোকানি আবুবকরের দোকান থেকে গ্যাস ট্যাবলেট কেনে সাদিয়া। ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করেছেন সাদিয়ার মা। স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম হাওলাদার অভিযোগ করেন, আবুবকরের কীটনাশক বিক্রির কোনো লাইসেন্স নেই। মুদি দোকানের আড়ালে তিনি বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক বিক্রি করেন বলেও দাবি করেন নিজাম। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুবকরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. বেল্লাল বলেন, অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য সকালে দুই ঘণ্টার অতিরিক্ত ক্লাস চলছিল।

মাদ্রাসায় এসে তিনি সাদিয়াকে বমি করতে দেখেন। প্রথমে সকালে খালি পেটে থাকার কারণে এমনটি হতে পারে বলে মনে করেছিলেন। পরে সাদিয়ার মাকে ফোন করে মাদ্রাসায় আনা হয়। এরপর সাদিয়াকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুন ফেরদৌস মহুয়া জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে। হাফিজুরের বাবা ইসহাক হাওলাদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, গ্যাস ট্যাবলেটটি কোথা থেকে ও কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দোকানটিতে কীটনাশক বিক্রির বৈধ অনুমোদন ছিল কি না, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন