• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

নিজেদের আঙিনাতেই এডিসের লার্ভা, কীভাবে ডেঙ্গু ঠেকাবে ডিএনসিসি-ডিএসসিসি?


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:১১ পিএম;
নিজেদের আঙিনাতেই এডিসের লার্ভা, কীভাবে ডেঙ্গু ঠেকাবে ডিএনসিসি-ডিএসসিসি?

নিজেদের আঙিনা ও ছাদেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থ রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। সংস্থা দুটির ভবনেই বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা। অথচ প্রতিদিন রাজধানীজুড়ে ডেঙ্গুর প্রজননক্ষেত্র খুঁজে বেড়ান সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই চিত্র স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরেও। সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির দায়িত্বে থাকা এই দফতরের আঙিনাও হয়ে উঠেছে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন চিত্র ধরা পড়েছে সময় সংবাদের ক্যামেরায়।

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রজননক্ষেত্র খুঁজতে ব্যস্ত দুই সিটি করপোরেশন। অথচ তাদের নিজেদের ভবনেই এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে, যার খোঁজ রাখছেন না কেউ। সরেজমিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঙিনায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানেই তৈরি হচ্ছে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র। সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে পড়ে আছে ভাঙা আসবাবপত্র ও ময়লার স্তূপ। এসবের মধ্যে অসংখ্য পাত্রে জমে আছে পানি। সেই পানিতে তৈরি হচ্ছে এডিস মশার লার্ভা, যা কয়েক দিনের মধ্যেই মশায় রূপান্তরিত হয়ে নগরবাসীকে কামড়াতে পারে।

ফেলে রাখা কীটনাশকের ড্রামেও জমে আছে পানি। ড্রোন ক্যামেরায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ছাদে দেখা যায়, সেখানে যেন এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রের ছড়াছড়ি। এমন চিত্র নিয়ে সময় সংবাদ কথা বলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, নিজেদের আঙিনা ও ছাদ পরিচ্ছন্ন রাখতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

ডা. জাহানে ফেরদৌস বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ছোট এলাকা নয়, অনেক বড় একটি এলাকা। এটি পরিচ্ছন্ন করতে অনেক সময় লাগে। এর মধ্যে বৃষ্টিও হচ্ছে। পরিষ্কার করতে তাই সময় লেগে যায়। হয়তো এখনো কর্মীদের ছাদে যাওয়া হয়নি।’

একইভাবে ড্রোন ক্যামেরায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছাদে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। শুধু ছাদেই নয়, ফেলে রাখা বালতিতেও দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে পানি। তবে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দাবি করেন, নিজ ভবনের ছাদে যাওয়ার অনুমতিই পান না মশক নিধনকর্মীরা।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘উত্তর সিটি করপোরেশন একটি বাণিজ্যিক ভবনে। এখানে ডিএনসিসির পাঁচ থেকে ছয়টি ফ্লোর রয়েছে। এরপর অন্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে। ছাদ যেহেতু আছে, সেখানে পানি থাকতেই পারে। একটি বিষয় ঠিক যে, ভবনের বেসমেন্টে যত সহজে প্রবেশ করতে পারি, ছাদে প্রবেশের সুযোগ তেমন নেই।’

বাদ যায়নি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরও। সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব আঙিনায় তৈরি হয়েছে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র। সেখানে পড়ে থাকা অসংখ্য পুরোনো ও ভাঙা গাড়িতে আটকে আছে পানি। সেই পানিতে তৈরি হচ্ছে এডিসের লার্ভা। তবে জনবল সংকটের কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. আল মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অধিদফতরের মন্ত্রণালয় থেকে কাগজ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত জনবল নেই। তবে এটি কোনো যুক্তি হতে পারে না। কারণ, এখানে প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। অবশ্যই এ বিষয়ে সবার দায়বদ্ধতা আছে।’

জমে থাকা পানিতে মাত্র তিন দিনেই এডিস মশার লার্ভা তৈরি হতে পারে। তাই মশক নিধনকর্মীদের সহযোগিতায় উত্তর সিটি করপোরেশনের ছাদে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের আঙিনা ও ছাদে তৈরি হওয়া ডেঙ্গুর প্রজননক্ষেত্র এখনো ধ্বংস করা হয়নি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন