মাগুরায় ভূমি অধিগ্রহণে ৭০ চেকে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ
সি: স্টাফ রিপোর্টা
রমাগুরায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মাঝে ৭০টি এলএ (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) চেকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৬ টাকা ২৭ পয়সা ক্ষতিপূরণ বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাশ্বতী শীল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইসলাম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে মধুখালী স্টেশন হতে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের আইনানুগ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিতরণ করা চেকের মধ্যে ০৪/২০১৯-২০ নম্বর এলএ কেসের আওতায় ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ৬৮টি চেকের মাধ্যমে ২ কোটি ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ টাকা ৯২ পয়সা, ০৬/২০১৯-২০ নম্বর এলএ কেসে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৫ টাকা ৯৪ পয়সা এবং ০৭/২০১৯-২০ নম্বর এলএ কেসে ৮০ হাজার ২৪১ টাকা ৪১ পয়সা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।
প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়, ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সৃষ্ট ০৪/২০১৯-২০ নম্বর এলএ কেসে মোট প্রাক্কলিত বরাদ্দ রয়েছে ১১৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৬ টাকা। এর মধ্যে ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৫৪ কোটি ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৮ টাকা ১৫ পয়সা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হয়েছে, যা মোট নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের প্রায় ৪৯ শতাংশ। অবশিষ্ট ক্ষতিপূরণের একটি অংশ দেওয়ানি মামলার কারণে স্থগিত থাকলেও বাকি অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া মাগুরা-শ্রীপুর মহাসড়কের বাঁক সরলীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ০৬/২০১৯-২০ নম্বর এলএ কেসে মোট ক্ষতিপূরণের প্রায় ৬৩ শতাংশ এবং ০৭/২০১৯-২০ নম্বর এলএ কেসে প্রায় ৪২ শতাংশ ক্ষতিপূরণ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
চেক গ্রহণকারী সুফিয়া রহমান বলেন, “কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছি।”
মাখন বিশ্বাস বলেন, “আমার ২৩ দশমিক ২১ শতক জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। আজ প্রায় ১৪ লাখ টাকার চেক পেয়েছি। পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল।”
আরেক উপকারভোগী মো. জাহিদুল হক বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে ফোন করে চেক প্রস্তুত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। আজ এসে চেক গ্রহণ করেছি। এ জন্য অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি।”
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত দাবিদারদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। স্বত্ব ও মালিকানা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের আইনানুগ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে প্রকৃত দাবিদারদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: