দালালদের দৌরাত্ম্যে বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবার অ্যাপ ‘সমাধান’, আবারও জিম্মি রোগীরা
দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে বন্ধ হয়ে গেছে অ্যাম্বুলেন্স সেবাভিত্তিক অ্যাপ ‘সমাধান’। অ্যাম্বুলেন্স সেবা ডিজিটাল ও ভোগান্তিমুক্ত করতে চালু হওয়া অ্যাপটি অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা পায়। বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির দাবি, রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে অ্যাপটি বন্ধ করা হয়েছে। জরুরি মুহূর্তে সুশৃঙ্খল ও ডিজিটাল অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের দালাল ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এমন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে চালু করা হয়েছিল ‘অল সমাধান’ নামের মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে মাত্র এক ক্লিকেই নির্ধারিত ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যেত। পাশাপাশি জানা যেত চালকের নাম-পরিচয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে ডিজিটাল করতে তিন মাস আগে চালু করা হয় ‘সমাধান’ অ্যাপ। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১৫০টি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। অর্থাৎ প্রতি পাঁচ মিনিটে একটি করে অ্যাম্বুলেন্সের ট্রিপ পরিচালিত হতো। রোগীদের সুবিধার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই তৈরি করা হয়েছিল অ্যাপটির মূল বুথ। তবে বর্তমানে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
অ্যাপ সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সুন্দর, স্বচ্ছ ও সহজ করার লক্ষ্যেই ঢাকা মেডিকেলে অ্যাপ ও বুথভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৫০টি ট্রিপ পরিচালিত হতো শুধু অ্যাপের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদল হোসেন মাতবর বলেন, ‘আগে ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্সের স্টাফ পরিচয় দিয়ে অনেক অপরাধের ঘটনা ঘটত। কেউ মোবাইল চুরি করেও নিজেকে অ্যাম্বুলেন্সের স্টাফ বলে পরিচয় দিত। তবে অ্যাপটি চালুর দুই-তিন মাসের মধ্যে আমি এমন কোনো ঘটনা দেখিনি, যেখানে অ্যাম্বুলেন্সের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করতে পেরেছে। আমরা চাই, এই অ্যাপের মাধ্যমে সুন্দরভাবে সেবা দেয়া হোক।’
জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অ্যাপটির মাধ্যমে জরুরি সেবা নিতে এসে এখন হতাশ হয়ে ফিরছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার আশায় এসে তারা পড়ছেন ভোগান্তিতে। তাদের অভিযোগ, দালালদের কাছে প্রতিদিন জিম্মি হতে হচ্ছে শত শত অসহায় রোগীকে।
এক অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, ‘অফিসে যে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে, সেটিই দিতে হয়। এর বাইরে ১০ জনের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেয়া যাবে না। সে হিসাবে অ্যাপের আওতায় থাকাটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।’
বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির দাবি, অ্যাপের মাধ্যমে স্বচ্ছ সেবা চালু থাকায় অসাধু দালালদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে অ্যাপটি বন্ধ করতে চক্রান্ত শুরু হয়। পরে সেবাটির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে এটি বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের পরিচয় দিয়ে অপরাধী চক্রের অনেকে হাসপাতালে ঢুকে বিভিন্ন অপরাধ করে পার পেয়ে যেত। কিন্তু এখন তারা এভাবে কাজ করতে পারছে না। বিভিন্ন দালাল চক্র রোগীদের কাছে গিয়ে অন্য হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তাব দেয়। এভাবে তারা রোগীদের নিয়ে চলে যায়।’
ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, রোগী নিয়ে বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সুশৃঙ্খল ও ডিজিটাল অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: