আলফাডাঙ্গায় শিশুকে গরুর রশি দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা, আটক নির্যাতনকারী
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পশ্চিম নওয়াপাড়া মারকাজুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র তামিম (১০)কে গলায় দড়ি পেচিয়ে নির্যাতন করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দোকানদার কাওছার মৃধা (৬০) এর বিরুদ্ধে।
পিতা-মাতা হারা এতিম শিশু তামিম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মৃত মশিউর রহমানের হতভাগ্য সন্তান।
সে আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের হানিফ শেখ (চেরাগ আলী)'র বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনা করছিল।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন ২০২৬) আছরের নামাজের সময় মাদ্রাসার বাউন্ডারির ভিতরে বাঁধা গরু মাদ্রাসার রোপনকৃত গাছ খেতে শুরু করলে তামিম গরুটি তাড়িয়ে দেয়। এতে গরুর মালিক কাওসার মৃধা (৬০) ক্ষিপ্ত হয়ে গরু বাঁধা রশির অপর প্রান্ত দিয়ে তামিমের কোমর ও গলায় বেঁধে গরুটিকে ছেড়ে দেয়। গরুটি দ্রুত দৌড়াতে শুরু করলে রশিতে বাঁধা তামিম ছেঁচড়ে যেতে থাকে এবং গলায় ফাঁস লেগে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে।এক পর্যায়ে তামিমের গলা থেকে রশিটি খুলে গেলে তামিম প্রাণে রক্ষা পেলেও গুরুতর ভাবে আহত হয়। সংবাদ পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তামিমকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। নির্মমতার শেষ এখানে নয়, এই অমানবিক নির্যাতন করেও কাওছারের আক্রোশ মেটে না। বিষয়টি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন কাওসার মৃধা পুনরায় শিশুটিকে রশিতে বেঁধে একই নির্যাতন চালায়।এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। লজিং বাড়ির মালিক হানিফ শেখ চেরাগ আলী এ ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করে বিচার দাবি করেছেন।
জানা গেছে, এতিম শিশু তামিমের উপর এই নিষ্ঠুর নির্যাতনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকার মানুষ, যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক অঘটন। অবস্থা আচ করতর পেরেই পুলিশ দ্রুত কাওছারকে গ্রেফতার করেছে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: