গলাচিপায় খাস জমিতে জিওপি’র অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৪
লিটু পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিরোধী জমির সামনে খাস জমিতে গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০) ও সুজন (২৫)সহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদুরা বাজারে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খোকন মৃধা ও খোকন হাওলাদারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই জমির সামনে থাকা সরকারি খাস জমিতে শুক্রবার সকালে আমখোলা ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধার নেতৃত্বে ১০-১৫ জন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাবুল হাওলাদারসহ কয়েকজন বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, তার ক্রয়কৃত জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে বাধা দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে তাদের ৪-৫ জন আহত হন।
অন্যদিকে, আমখোলা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব এমদাদ হোসেন দাবি করেন, খোকন মৃধার রেকর্ডীয় জমির সামনে খাস জমিতে অফিস নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ হামলা চালায়, এতে তাদের অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হন।
খোকন মৃধার ছেলে শাকিল জানান, তাদের মালিকানাধীন জমির সামনে সরকারি খাস জমি রয়েছে এবং পাশেই বাবুল হাওলাদারের জমি অবস্থিত। তিনি বলেন, খাস জমিতে তারা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ এতে বাধা দেয়।
খোকন মৃধার স্ত্রী সাহিদা ইসলাম শান্তনা বলেন, ক্রয় সূত্রে জমির মালিকানা তাদের হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিকবার গিয়েও সমাধান পাননি। বরং তাদের জমি বিক্রি করে দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তারা গণঅধিকার পরিষদের সমর্থন করেন। দলীয় সমর্থন থেকে নিজ জমিতে গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষরা এসে ঘর ভাঙচুর ও মারধর করে।
এ বিষয়ে আমখোলা ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: