• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

ধানের বীজে ‘প্রতারণা’: কাঙ্ক্ষিত ফলন না পেয়ে আমতলীতে দুই শতাধিক কৃষকের মাথায় হাত


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৪৬ পিএম;
ধানের বীজে ‘প্রতারণা’: কাঙ্ক্ষিত ফলন না পেয়ে আমতলীতে দুই শতাধিক কৃষকের মাথায় হাত

মো. আ. কাইয়ুম, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

 

বরগুনার আমতলীতে ব্রি-৯৮ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ কিনে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক কৃষক। বীজ রোপণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। আউশ মৌসুমে এই বিপর্যয়ের কারণে এখন একই জমিতে পরবর্তী আমন চাষ নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছুরিকাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা হাতে নষ্ট হওয়া ধানের গোছা নিয়ে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষী ডিলারের শাস্তি দাবি করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, আমতলী পৌরশহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ব্রি-৯৮ জাতের বীজ কিনে তারা এই বিপাকে পড়েছেন।

কৃষকদের ভাষ্যমতে, গত এপ্রিল মাসে তারা জমি প্রস্তুত করে ব্রি-৯৮ জাতের ধানের বীজ দিয়ে বীজতলা তৈরি করেন এবং পরবর্তীতে তা জমিতে রোপণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী ব্রি-৯৮ জাতের ধান প্রায় ১১০ দিনের মধ্যে কাটার উপযোগী হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক ক্ষেতে আশানুরূপ ধান আসেনি। বিষয়বস্তু নিয়ে ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক সমাধান দেননি। কৃষকদের ধারণা, ব্রি-৯৮-এর মোড়কে নিম্নমানের বা অন্য কোনো জাতের বীজ বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে।

আউশ মৌসুমের ধান ঘরে তোলার পর এসব জমিতে আমন ধান চাষের পরিকল্পনা ছিল কৃষকদের। কিন্তু আউশ ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় এবং ক্ষেত সময়মতো খালি করতে না পারায় আমন চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি ৮ একর জমিতে ব্রি-৯৮ ধানের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু কোনো ফলন আসেনি। এখন আমন ধান চাষ করার অবস্থাও নেই। ধারদেনা করে চাষাবাদ করে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।’

আরেক কৃষক দেলোয়ার  বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি। কীভাবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকব বুঝতে পারছি না। আমরা ডিলার খালেক হাওলাদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

কৃষক মো. রনি গাজী জানান, ব্রি-৯৮ ধান চাষ করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক আজ সর্বস্বান্ত।

কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘কৃষিই আমার একমাত্র পেশা। ধান বিক্রির আয় দিয়েই সারা বছর সংসার চলে। কিন্তু এবার দুই মৌসুমেই ঠিকমতো ধান চাষ করতে পারব কি না, তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় আছি।’

এদিকে কৃষকদের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার বলেন, ‘আয়ান সিডের মোড়কে আমি নিজে কোনো ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি থেকে যেভাবে সরবরাহ করা হয়েছে, আমি ঠিক সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পরই আমরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই বিষয়টি তদন্ত করতে আসবেন। ডিলার যদি কোনো বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন