‘জ্যাতা নমো পুড়মু’—চেয়ারম্যান প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ফরিদ গাজী সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রার্থী বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে অন্য একটি মামলায় আদালতের পরোয়ানায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই ফরিদ গাজী ও তাঁর সহযোগীরা গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রার্থীর সমর্থকেরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানোর সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ গাজী মোবাইল ফোনে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। ফোনালাপে তাঁর ব্যবহৃত একটি আপত্তিকর বাক্য (‘আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনাকে বাইছা নিছি’) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদ গাজীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমের কাছে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং উল্টো গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের লোকজনের বিরুদ্ধে তাঁকে হুমকির অভিযোগ তোলেন।
এদিকে, এই হুমকির ঘটনার পাশাপাশি পূর্বের অন্য একটি মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি দেওয়ার একটি কল রেকর্ড শুনেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় একটি জিডি করেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জিডির তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আদালতের পরোয়ানা থাকায় অন্য একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফরিদ গাজীর রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। গত দুই বছরে তাঁর বিরুদ্ধে মারধর, লুটপাট ও দখলসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ থানায় জমা পড়েছে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং ইতিপূর্বেও তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা গেছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: