৯/১১ : শোকের ২৫ বছর, ক্ষত এখনো গভীর
‘নাইন ইলেভেন’, দুটি শব্দ, যা গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে একটি ভয়াবহ ঘটনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনে প্রায় ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিমান আঘাত হানে।
ভয়াবহ ওই হামলার পর মুসলিম সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং বিশ্ব রাজনীতিতেও শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়।
হামলার জন্য আল-কায়েদা ও এর নেতা ওসামা বিন লাদেনকে দায়ি করে যুক্তরাষ্ট্র। এর এক মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটি। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ঘোষিত ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘ওয়ার অন টেরর’-এর এটিই ছিল প্রথম বড় সামরিক অভিযান।
পরবর্তী সময়ে ইরাক ও লিবিয়াতেও মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
নাইন ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, মুসলিম বিশ্বেও এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়েছে। মার্কিন প্রশাসন বারবার বলেছে, তাদের লড়াই কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয় বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী থেকে শুরু করে ধ্বংসস্তূপ, আতঙ্কিত মানুষের ছুটে চলা এবং স্বজন হারানোর কান্না, এই দৃশ্যগুলো আজও ইতিহাসের পাতায় অমলিন।
২৫ বছর পর ফিরে দেখা সেই ভয়াবহ দিনের কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত।
নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে দুটি বিমান (আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১১ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭৫) ইচ্ছাকৃতভাবে আছড়ে ফেলা হয়। ১১০ তলার দুটি টাওয়ারই ধসে মাটিতে মিশে যায়।
হামলার আগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (টুইন টাওয়ার)।
সেপ্টম্বের ১১, ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথ টাওয়ারে দ্বিতীয় বিমান আঘাত করার আগের মুহূর্তের ছবি।
দুটি টাওয়ারে দুটি বিমান আঘাত করার কিছুক্ষণ পর দুটি টাওয়ারই ধসে পড়ে।
‘দ্য ফলিং ম্যান’, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী রিচার্ড ড্রিউয়ের ক্যামেরায় ধারণ করা মর্মান্তিক এক ছবি।
সেই সকালে চালানো হামলায় ১৯ জন বিমান ছিনতাইকারী ছাড়া মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন মানুষ নিহত হন। পরে ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরও সরকারি তালিকায় যুক্ত করা হয়। ফলে নাইন ইলেভেনে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৯৬ জনে। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের। এর মধ্যে নর্থ টাওয়ারে আনুমানিক এক হাজার ৭০০ জন এবং সাউথ টাওয়ারে প্রায় এক হাজার মানুষ জন প্রাণ হারান।
হামলার পরপরই ওসামা বিন লাদেনকে মূল সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী হিসেবে ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট বুশ।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে নিহত দমকল কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতি।
নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে দুটি বিমান হামলার খবর যখন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ পান, তখন তিনি একটি স্কুলে শিশুদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখানেই তাকে জানানো হয়, ‘আমেরিকা ইজ আন্ডার অ্যাটাক’।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা দুটি বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানে। বিমান দুটি ছিল আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত এই স্থানটিই ‘গ্রাউন্ড জিরো’ নামে পরিচিত। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় এখানেই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে যায়।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: