• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

কুয়াকাটা পৌরসভার অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:০৫ পিএম;
কুয়াকাটা পৌরসভার অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর

লিটু পটুয়াখালী প্রতিনিধি। :

 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর। দীর্ঘদিন জীর্ণশীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলো নতুন ঘর পেয়ে আনন্দিত। প্রতিটি পরিবারের জন্য নির্মাণ করা নতুন ঘরের সঙ্গে রাখা হয়েছে একটি করে স্যানিটারি টয়লেট।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে গৃহহীন ৮০টি জেলে পরিবারকে নতুন ঘর দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন (অরকা)’। ওই সময় থেকেই পল্লীটির নাম হয় ‘অরকা পল্লী’। ঘর নির্মাণের পর দীর্ঘ ১৯ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার না হওয়ায় ঘরগুলো ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন পল্লীর বাসিন্দারা।

এ অবস্থায় অরকা পল্লীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সোওয়াব ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্তমানে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে রয়েছে একটি করে স্যানিটারি টয়লেট।

পল্লীর বাসিন্দাদের দুর্দশার বিষয়টি সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি বিষয়টি ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদারের কাছে তুলে ধরেন।পরে ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল অরকা পল্লী সরেজমিনে পরিদর্শন করে। যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে বসবাসরত ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘ তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় নতুন ঘরগুলোর নির্মাণকাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ পরিবারের কাছে নতুন ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।

পল্লীর বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে বসবাস করতে হয়েছে। বৃষ্টি ও বন্যার সময় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ত। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে সেখানে বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। নতুন ঘর পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত।

পল্লীর বাসিন্দা ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম জানায়, নতুন ঘরে পড়াশোনার ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। আগের ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নতুন ঘর পেয়ে সে খুব আনন্দিত। পল্লীর সবাই নতুন ঘর পেয়ে খুশি।
অরকা পল্লী সমিতির সভাপতি জেলে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বললেন, সোওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগে রাতে ঘুমাতেও দুশ্চিন্তা হতো। এখন স্যানিটারি টয়লেটসহ মানসম্মত ঘর পেয়ে তাদের সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে।

সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার খবর পেয়ে তিনি পল্লীটি পরিদর্শন করেন। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদারের কাছে পাঠান। এরপর তাঁর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অধিকাংশ পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই বাকি পরিবারগুলোও নতুন ঘরে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
সোওয়াব ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদার বলেছেন, স্থানীয় ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার কথা জানতে পারেন তারা। পরে প্রতিনিধি দল সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি ঘরের আয়তন ১৮ ফুট × ১৪ ফুট। ঘরগুলো মাটি থেকে প্রায় ৩ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে একটি করে টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পেরে তারা আনন্দিত। চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে। ভবিষ্যতেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে সোওয়াব ফাউন্ডেশন কাজ করে যাবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন