• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

মাগুরায় প্রকৌশলীর অনুকরণীয় উদ্যোগ: ছাদঘেরা সোলার থেকে বিদ্যুৎ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:০২ পিএম;
মাগুরায় প্রকৌশলীর অনুকরণীয় উদ্যোগ: ছাদঘেরা সোলার থেকে বিদ্যুৎ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

মাগুরা প্রতিনিধি:

 

নিজের প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাগুরার তরুণ প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান (৩৬)। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে তিনি যেমন নিজের খরচ কমাচ্ছেন, তেমনি প্রতি মাসে বাড়তি আয়ও করছেন।

মো. আখতারুজ্জামান মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের আবু তাহের মন্ডলের ছেলে। পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন।

জানা গেছে, ঢাকার নবাবপুর থেকে এজেন্সির মাধ্যমে বিএসটিআই (BSTI) ও স্রেডা (SREDA) অনুমোদিত ‘ওমেপা’ ও ‘জিংকো জে.এ’ কোম্পানির ৯টি সোলার প্যানেল সংগ্রহ করে নিজের একতলা ভবনের ছাদে স্থাপন করেন প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এসব প্যানেল দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিটি প্যানেলের উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫০ থেকে ৬৩০ ওয়াট পর্যন্ত।

‘সালেহা অয়েল মিল’-এর নেট মিটারিং প্রকল্প বাস্তবায়নে তার মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। বর্তমানে এই প্রজেক্ট থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অনগ্রিড ইনভার্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ সরাসরি মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

মাগুরা-যশোর সড়কের কেচুয়াডুবি এলাকায় অবস্থিত তার ‘সালেহা অয়েল মিল’ ও ‘সালেহা এলপিজি স্টেশন’-এর মোট বিদ্যুতের প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা এই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ হচ্ছে। নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর বাকি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উদ্যোক্তা আখতারুজ্জামান জানান, তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ ইউনিট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন। প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় মাসে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ টাকা।

তার এই উদ্যোগ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করছে। দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষিত তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তারা তার এই প্রজেক্ট দেখতে ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল শিখতে নিয়মিত ভিড় করছেন।

এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প। প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান তার সোলার প্রজেক্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে এই কার্যক্রমে প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন। 
তার এই সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আশা করি, তার এই কাজ দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবেন।”

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন