ফরিদপুরে বলাতকারের অভিযোগে গণধোলাইয়ের পর পুলিশের হাতে আটক মাদ্রাসা মুহতামিম
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
মাদ্রাসা মুহতামিমের বিরুদ্ধে ১৩ বছরের এক ছাত্রকে বলাতকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে গড়ে উঠেছিল পশুপাখির চেয়েও জঘন্য এক যৌন অভয়ারণ্য! ছুটির সুযোগ নিয়ে ১৩ বছর বয়সী কোমলমতি নাজেরা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে বারবার বলাৎকার করার অভিশাপ নেমে এল মুহতামিমের ওপর। অবশেষে ওই শিশুর সাহসী জবানবন্দি ও স্বজনদের ক্ষোভের মুখে রশি দিয়ে গাছে বাঁধা পড়লেন অভিযুক্ত হুজুর।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব বিএসডাঙ্গী এলাকার 'জামিয়া ইসলামীয়া দারুল কোরআন মাদরাসা' প্রাঙ্গণে ঘটে এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
আটককৃত অভিযুক্ত মুহতামিমের নাম কারী মো. মাছুদ (২৭)। তিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গদাগাড়া গ্রামের মাহবুর গোলদারের ছেলে এবং উক্ত মাদরাসার মুহতামিম পদে কর্মরত ছিলেন। ভুক্তভোগী ১৩ বছরের ওই শিশুটির বাড়ি চরভদ্রাসন উপজেলার সব্যুল্যা মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকায়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই মাদরাসায় ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নাজেরা বিভাগের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন মুহতামিম কারী মাছুদ। এতদিন ভয়ে মুখ না খুললেও বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পরিবারের কাছে শিক্ষকের সব অপকর্মের কথা ফাঁস করে দেয়। শিশুটি স্পষ্ট জানায়, এর আগেও তাকে কয়েক দফায় জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন ওই মুহতামিম।
অভিযোগ শোনামাত্রই শিশুটির বাবা ও ক্ষুব্ধ স্বজনেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সোজা চলে যান বিএসডাঙ্গী এলাকার সেই মাদরাসায়। সেখানে গিয়ে কারী মাছুদকে হাতেনাতে চেপে ধরেন তারা। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত মানুষ মাদরাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মুহতামিমকে বেধড়ক মারধর ও গণধোলাই দেওয়ার পর মাদরাসার পাশের একটি গাছের সঙ্গে শক্ত রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে মুতামিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান-
“মাদরাসায় ছুটি চলাকালীন ওই ছাত্রকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। শিশুটি আজ বাড়িতে গিয়ে সব খুলে বলার পর তার অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন মুহতামিম কারী মাছুদকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনে।"
ওসি সফর আলী আরও যোগ করেন, ঘটনাস্থল ভৌগোলিক সীমানা অনুযায়ী সদরপুর থানার অন্তর্গত হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে আটককৃত অভিযুক্ত কারী মাছুদকে সংশ্লিষ্ট সদরপুর থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: