ফরিদপুরের মধুখালীতে বৃক্ষপ্রেমী নূর হোসেনের সফলতার গল্প: ‘দেউল নার্সারী’ বদলে দিয়েছে জীবন
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাছপালা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা মানুষকে কতটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের মধুখালীর বৃক্ষপ্রেমী নূর হোসেন ফকির। নিজের অদম্য ইচ্ছা, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘দেউল নার্সারী’। এই নার্সারী কেবল তাঁর ভাগ্যের চাকাই ঘুরিয়ে দেয়নি, বরং তাঁকে সমাজে একজন সফল ও স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বর্তমানে দেউল নার্সারীর সুনাম ও চারা গাছের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় নূর হোসেন ফকির এর পরিধি আরও সম্প্রসারণ করেছেন। কামারখালী বাজার থেকে সামান্য পশ্চিমে, ঐতিহ্যবাহী মধুমতি ব্রিজের পূর্ব পাশে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে তিনি স্থাপন করেছেন ‘দেউল নার্সারী (কামারখালী শাখা)’। মহাসড়কের পাশে সুবিধাজনক স্থানে হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য ক্রেতা ও বৃক্ষপ্রেমী সহজেই এখানে এসে তাদের পছন্দের গাছ সংগ্রহ করতে পারছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেউল নার্সারীর এই শাখায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতি ও জাতের ফল, ফুল এবং ঔষধি গাছের এক অভূতপূর্ব সমাহার ঘটেছে। এখানে রয়েছে—
ফুলের চারা: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রঙের গোলাপ, নামীদামী প্রজাতির বাগানবিলাস (বোগেনভিলিয়া), জবা, টগর, বেলি, বকুলসহ রকমারি সৌখিন ফুল গাছ।
ফলের চারা: উন্নত জাতের আম, লিচু, মাল্টা, পেয়ারা, কাঁঠাল, ড্রাগন ফলসহ নানা প্রকার দেশি ও থাই প্রজাতির চারা।
ঔষধি ও অন্যান্য গাছ: নিম, তুলসী, অর্জুন, অ্যালোভেরা ও বিভিন্ন দুর্লভ ভেষজ উদ্ভিদ।
নিজের এই পথচলা সম্পর্কে প্রোপাইটর নূর হোসেন ফকির জানান, প্রকৃতির প্রতি টান থেকেই প্রথম চারা গাছ রোপণ ও পরিচর্যা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারী গড়ে তুলে আজ তিনি স্বাবলম্বী। তিনি মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ভালোবাসা থাকলে সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।
স্থানীয়রা জানান, নূর হোসেন ফকিরের এই উদ্যোগ এলাকার তরুণ ও বেকার যুবকদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষি ও বৃক্ষরোপণ খাত থেকেও নিজেদের স্বাবলম্বী করা সম্ভব।
মিজান উর রহমান
সহযোগী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
দৈনিক পুনরুত্থান।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: