অনলাইন জুয়া ও মাদকের অভিযোগে তোলপাড় চরশাহী, ‘ক্যাসিনো মতিন’ বলছেন সবই মিথ্যা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন চরশাহী ইউনিয়নে আবদুল মতিন ওরফে ‘ক্যাসিনো মতিনকে’ ঘিরে অনলাইন জুয়া ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের অনলাইন জুয়া ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এতে মতিনের পাশাপাশি তার ছেলে শামিম হোসেনর সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক তরুণ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং একাধিক পরিবার বিপাকে পড়ছে। পাশাপাশি মাদকের সংস্পর্শে গিয়ে তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হওয়ার অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মতিন ও তার ছেলেকে ঘিরে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বাজারে থাকা চায়ের দোকানটি মতিন ছেড়ে দিয়েছেন। তবে দোকান ছাড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মতিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন আরও অভিযোগ করেন, মতিনের কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতা রয়েছে। এ কারণে অনেকে প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না বলেও তারা দাবি করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও আপত্তি থাকলেও অনলাইন জুয়া ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে মতিনকে ঘিরে ফাহাদ নামে এক যুবককে করা মামলাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফাহাদের পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর মতিন তাদের জানিয়েছিলেন, ওপর মহলের চাপে ফাহাদের নাম মামলায় এসেছে। পরে মামলা সংক্রান্ত বিষয় মীমাংসার কথা বলে প্রথমে ৮০ হাজার টাকা এবং সংবাদ প্রকাশের পর ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি মতিন তাদের উদ্দেশে বলেছেন—“রাতের আঁধারে কেউ কাউকে মেরে ফেললে তখন কার নামে অভিযোগ দিবে?” পরিবারের দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে এই বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফাহাদের পরিবার আরও জানায়, মামলায় কারাগারে থাকা ফাহাদ গত বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ফাহাদের মা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য বলেও পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
অনলাইন জুয়া ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে মতিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তিনি বলেন, “এগুলো যারা আমাকে নিয়ে বলেছে তারা ভালো জানে। তবে এগুলো মিথ্যা কথা।”
ফাহাদকে ঘিরে মামলা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়েও জানতে চাইলে মতিন সেসব অভিযোগ “মিথ্যা কথা” বলে দাবি করেন। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, অনলাইন জুয়া ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি মতিনের পিচনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলকে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: