• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ ফেরুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. অর্থনীতি

রমজানের সপ্তাহ পার হলেও খানসামায় নেই প্রশাসনের বাজার মনিটরিং


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৩৮ পিএম;
রমজানের সপ্তাহ পার হলেও খানসামায় নেই প্রশাসনের বাজার মনিটরিং

নুর-আমিন,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

 

পবিত্র রমজানের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। রমজান শুরুর আগেই দিনাজপুরের খানসামায় বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য ক্রেতার সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।

রমজান এলেই বাজারে যেন এক অদৃশ্য উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয় হাহাকারের চিত্র। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। 

উপজেলার খানসামা বাজার, পাকেরহাট বাজার, কাঁচিনিয়া বাজার, রামকোলাসহ বেশ কিছু বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, বেগুন, খেজুর, তরমুজ, শসা ও লেবুসহ বেশ কিছু পণ্যের বাজার মূল্য আকাশছোয়া।

ক্রেতাদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকির ঘাটতি। নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি না থাকায় বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

ক্রেতারা প্রশ্ন তুলছেন—রমজান এলেই কেন প্রতিবছর একই দৃশ্যপটের পুনরাবৃত্তি ঘটে? পবিত্র এই মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যথাযথ নজরদারি না থাকায় বাজারে গড়ে উঠছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, যারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বছর ঘুরে রমজান এলেই একই অভিযোগ, একই ক্ষোভ শোনা গেলেও কার্যকর কোনো সমাধান চোখে পড়ে না।

এতে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন জাগছে—রমজান আসলেই কি বাজার অশান্ত হবেই? নাকি এই অরাজকতার পেছনে রয়েছে দুর্বল প্রশাসনিক তদারকি ও অব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের?

সাদ্দাম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রমজানে শয়তান বন্দি থাকলেও কিছু ব্যবসায়ীর মনের শয়তানি বন্ধ হয় না। নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি না থাকায় বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর অনুপস্থিতিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, ইউএনও স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

“রমজান মানেই কি বাড়তি কষ্ট?”—এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।ভুক্তভোগীদের একটাই দাবি—আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য নিশ্চিত করা। তা না হলে রমজান প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বদলে দুঃসহ হয়ে উঠবে।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / নুর-আমিন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন