• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. রাজনীতি

ক্ষমতার নয়, মানুষের হৃদয়ের রাজনীতি—বাকেরগঞ্জে আশার আলো হয়ে উঠছেন সাবরিনা আক্তার (জিয়া)


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৫১ এএম;
ক্ষমতার নয়, মানুষের হৃদয়ের রাজনীতি—বাকেরগঞ্জে আশার আলো হয়ে উঠছেন সাবরিনা আক্তার (জিয়া)

নজরুল ইসলাম আলীম:

 

রাজনীতি—এই শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে প্রতিশ্রুতির ঝড়, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আর নির্বাচনের পর ভুলে যাওয়ার গল্প। কিন্তু সেই চিরচেনা ধারার বাইরে, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক ভিন্নধর্মী প্রত্যাশা—একজন মানুষের প্রতি, যিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, মানুষের সেবা করার একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।
তিনি সাবরিনা আক্তার (জিয়া)।৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি শুধু একটি নির্বাচনী ঘোষণা দেননি—তিনি যেন উচ্চারণ করেছেন মানুষের পাশে থাকার এক আজীবন প্রতিশ্রুতি।সাবরিনা আক্তারের জীবন কোনো হঠাৎ আলোচিত হয়ে ওঠা নাম নয়। এটি এক দীর্ঘ পথচলার গল্প—মানুষের দুঃখে কাঁধ রাখার গল্প, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর গল্প, আর নিজের স্বপ্নকে মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার গল্প।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন ভিন্নধর্মী। যখন অনেকেই নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, তখন তিনি খুঁজে বেড়িয়েছেন—কোথায় কেউ কষ্টে আছে, কোথায় কারো সাহায্য প্রয়োজন। এলাকার গরিব, অসহায়, বিপদগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যেন তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল।মানুষ তাকে শুধু একজন নারী হিসেবে দেখেনি—দেখেছে একজন আশ্রয়, একজন ভরসা, একজন আপনজন হিসেবে।
করোনা মহামারীর সেই ভয়াবহ দিনগুলো—যখন চারপাশে শুধু আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্ব। অনেকেই যখন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল, তখন সাবরিনা আক্তার ছিলেন রাস্তায়, মানুষের দরজায়, মানুষের পাশে।কেউ খাবার পাচ্ছে না—তিনি পৌঁছে গেছেন।কেউ ওষুধের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে—তিনি ব্যবস্থা করেছেন।কেউ একা, অসহায়—তিনি পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন।এই সময়টিই তাকে মানুষের হৃদয়ে এক আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। কারণ মানুষ তখন বুঝেছে—এই মানুষটি শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।
একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সাবরিনা আক্তার খুব কাছ থেকে দেখেছেন মানুষের বাস্তব জীবন। প্রতিদিনের খবরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হাজারো কষ্ট, বঞ্চনা, অবহেলা—সবকিছুই তার কাছে ছিল স্পষ্ট।তিনি দেখেছেন—একটি ড্রেনের সমস্যা কিভাবে একটি পরিবারের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।
তিনি দেখেছেন—একটি রাস্তার অভাবে কিভাবে একটি এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়।
তিনি দেখেছেন—নারীরা কতটা অবহেলিত, কতটা পিছিয়ে।এই দেখাগুলোই তাকে বদলে দিয়েছে। তিনি বুঝেছেন—শুধু সমস্যা তুলে ধরলে হবে না, সমাধানের জায়গায় দাঁড়াতে হবে।সাবরিনা আক্তার বিশ্বাস করেন—নারীরা যদি এগিয়ে আসে, সমাজ বদলাতে বাধ্য।
তিনি শুধু নিজের জন্য রাজনীতিতে আসতে চান না—তিনি চান প্রতিটি নারী যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারে, নিজের অধিকার আদায় করতে পারে।তার স্বপ্ন—একটি এমন সমাজ, যেখানে নারীরা আর পিছিয়ে থাকবে না; বরং নেতৃত্ব দেবে, পথ দেখাবে।তার স্বামী সাংবাদিক জিয়াউল হক আকনের দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। কিন্তু সাবরিনা আক্তার নিজেই একটি শক্তিশালী পরিচয় গড়ে তুলেছেন—নিজের কাজ দিয়ে, নিজের মানবিকতা দিয়ে।মানুষ তাকে চেনে, বিশ্বাস করে, ভালোবাসে।কারণ তিনি শুধু নির্বাচনের সময় আসেন না—তিনি সবসময় থাকেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে আবেগে ভেসে ওঠে তাদের কণ্ঠ।কেউ বলেন,“তিনি আমাদের কষ্টের সময় পাশে ছিলেন, আমরা তাকে একা ছাড়বো না।”
কেউ বলেন,“আমাদের ঘরের মানুষ যদি কাউন্সিলর হয়, তাহলে তো আমাদের কথা বলার মানুষ থাকবে।”
এই কথাগুলো শুধু সমর্থন নয়—এগুলো ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি।এই নির্বাচন শুধু ভোটের হিসাব-নিকাশ নয়।এটি এক আবেগের লড়াই—মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের লড়াই।একদিকে প্রচলিত রাজনীতির চেনা মুখ, অন্যদিকে এক নতুন স্বপ্ন, এক নতুন সম্ভাবনা।সাবরিনা আক্তার (জিয়া) সেই সম্ভাবনার নাম।আজ বাকেরগঞ্জের মানুষ একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে—তারা কি আবার সেই পুরোনো পথেই হাঁটবে, নাকি নতুন একটি আলোর দিকে এগিয়ে যাবে?
হয়তো এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে—মানুষ কাকে চায়, কেমন নেতৃত্ব চায়।কিন্তু একটি সত্য ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত—সাবরিনা আক্তার আর শুধুই একজন প্রার্থী নন, তিনি হয়ে উঠেছেন মানুষের আশা, বিশ্বাস আর ভালোবাসার এক উজ্জ্বল প্রতীক।বাকেরগঞ্জ এখন তাকিয়ে আছে—এই আলো কি সত্যিই তাদের ভবিষ্যৎ আলোকিত করবে?নির্বাচনের মাঠই দেবে সেই উত্তর…

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন