জ্বালানির দামে ‘স্বস্তি’ হারিয়ে গিয়েছে: পাঁচ মাসে অকটেনে ২৫ টাকা, এলপিজিতে ৫৪৪ টাকা বাড়তি চাপ
নজরুল ইসলাম আলীম:
বছরের শুরুতে জ্বালানি বাজারে যে সামান্য স্বস্তির আভাস মিলেছিল, এপ্রিল মাসের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে তা একপ্রকার বিলীন হয়ে গেছে। জুন মাসে এসে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য সমন্বয় হলেও জ্বালানি তেল ও এলপিজির বাড়তি ব্যয়ের চাপ এখনও বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে পরিবহন খরচ, পণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে এর প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জানুয়ারি মাসে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। ফেব্রুয়ারিতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই টাকা কমালে ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। মার্চ মাসেও সেই দাম অপরিবর্তিত থাকায় বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।কিন্তু এপ্রিলে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। এক দফায় জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়। অকটেনে লিটারপ্রতি ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা, ডিজেলে ১৫ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এই মূল্যবৃদ্ধি বছরের শুরুর সব ধরনের স্বস্তিকে মুছে দেয়।মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জুনে আবারও পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়। বর্তমানে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা লিটারে। ফলে বছরের শুরুতে ১২০ টাকায় পাওয়া অকটেন কিনতে এখন ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ১৪৫ টাকা, অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসে লিটারপ্রতি ২৫ টাকা বেশি।এলপিজির বাজারেও একই ধরনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বছরের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে সামান্য মূল্যহ্রাসের পর মার্চে দাম স্থিতিশীল থাকলেও এপ্রিল মাসে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। মে মাসে সেই উচ্চ মূল্যই বহাল থাকে।চলতি জুন মাসে এলপিজির দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ভোক্তাদের স্বস্তি ফেরেনি। কারণ ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তুলনায় এখনও প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৫৪৪ টাকা বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।ভোক্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি খাতের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু যাতায়াত ব্যয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং বাজারের প্রায় প্রতিটি পণ্যের মূল্যেও পরোক্ষ প্রভাব ফেলছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। মাস শেষে জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব এখন তাদের জন্য কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং মানসিক চাপেরও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / এস এম আজগার আলী
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: