• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

মহম্মদপুরে পশু জবাই ও মাংস বিক্রিতে চরম অব্যবস্থাপনা: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:১৩ পিএম;
মহম্মদপুরে পশু জবাই ও মাংস বিক্রিতে চরম অব্যবস্থাপনা: জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

এস এম আজগার আলী, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি :

 

 ​মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় পশু জবাই ও মাংস বিক্রিতে সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। নির্ধারিত কসাইখানার অভাব, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং মাংসের বাজারে মূল্য নৈরাজ্য জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ সত্ত্বেও উপজেলার ৩১টি হাট-বাজারের কোনোটিতেই প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যকর তদারকি নেই।

​সরেজমিনে দেখা যায়, মহম্মদপুর সদর বাজারসহ বেশিরভাগ বাজারে কোনো নির্ধারিত কসাইখানা নেই। কসাইরা ভোরে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ কিংবা নদীর তীরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করেন। এরপর কোনো সুরক্ষা ছাড়াই খোলা ভ্যান বা ড্রামে করে মাংস বাজারে আনা হয়। জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় রোগাক্রান্ত বা মরণাপন্ন পশুর মাংস খাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

​শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, বাজারে মাংসের মান ও দাম নিয়ে রয়েছে ভোক্তাদের ব্যাপক অভিযোগ।অনেক সময় এঁড়ে গরুর দামে গাভীর মাংস এবং খাসির দামে বয়স্ক মাদী ছাগলের মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।
 বাজারে কোনো মূল্য তালিকা বা মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতাদের ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে মাংস কিনতে হচ্ছে।

​মাংস বিক্রেতাদের দাবি, নির্ধারিত কসাইখানা ও বর্জ্য ফেলার সুব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে যত্রতত্র পশু জবাই করছেন। এদিকে মহম্মদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত সেন জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বাজার তদারকি জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

​নতুন যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতি মিস্ত্রী জানান, "সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। পশুর ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া যত্রতত্র পশু জবাই এবং মাংসের বাজারে মূল্য নৈরাজ্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।" তিনি জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী কসাইখানা চালু এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

​স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে মহম্মদপুরের মাংস বাজারে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির অবসান ঘটবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাংস পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন