• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২০ এএম;
ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে

পুরো ম্যাচের একের পর এক দারুণ আক্রমণ করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কিন্তু বারেবারে নরওয়ের গোলরক্ষকের কাছে গিয়ে পরাস্ত হন গুইমারেস-এন্দ্রিক। এভাবেই কেটে যায় ৭৮ মিনিট। পরের দশ মিনিটের গল্পটা আর্লিং হালান্ডের। এই সময়ের মধ্যে ব্রাজিলের জালে দুবার বল পাঠান এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল পরিশোধ করলেও ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারায় নরওয়ে।

আর তাতে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় মহাকাব্য লিখল নরওয়ে। আর্লিং হালান্দের দানবীয় পারফরম্যান্সে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরবময় ইতিহাস গড়ল নরওয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের দলটি।

ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফালি। তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে অফসাইডে দেওয়া গোলটি ছিল প্যাটট্রিক বার্গের।

এদিকে ম্যাচের দশম মিনিটে লিড নিতে পারতো নরওয়ে। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।

পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহা এবং মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। ফলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলহীনভাবেই বিরতিতে যেতে হয় লাতিন আমেরিকার দলটিকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে নরওয়ে। মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ।

এদিকে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে কুনহা পরবির্তে এন্দ্রিককে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি। মাঠে নামার প্রথম মিনিটেই গোলে এক সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন এই উদীয়মান ব্রাজিলিয়ান তারকা। বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিক করে। বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলটি চলে যায় গোলবার পাশ দিয়ে।

৬২তম মিনিটে বক্সের খানিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন রায়ান। এবারও নরওয়ের ত্রাতা হয়ে উঠেন গোলরক্ষক নাইল্যান্ড। এক মিনিট পরেই দুর্দান্ত এক সুযোগ নষ্ট করেন গুইমারেস।

ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। না, কোনো গোল হয়নি। এসময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। তার সঙ্গে দানিলোকেও মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে নিউজার্সির পুরো স্টেডিয়ামকে যেন স্তব্ধ করে দেন নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। দুর্দান্ত এক হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতেই ১-০ গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে। 

এখানেই থামেননি হালান্ড। প্রথম গোলের ঠিক দশ মিনিট পর আরও একবার ব্রাজিলের জালে বল পাঠান তিনি। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শট নেন তিনি। যা আটকাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার। ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি নেইমার। ম্যাচটি শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন