• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

দশমিনার হাজীরহাট লঞ্চঘাটে চরম ভোগান্তি: ডুবে যাওয়া জেটি পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:০৬ পিএম;
দশমিনার হাজীরহাট লঞ্চঘাটে চরম ভোগান্তি: ডুবে যাওয়া জেটি পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত

 দশমিনা (পটুয়াখালী):

 

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাজীরহাট লঞ্চঘাটের সংযোগ জেটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে নদীতে ডুবে রয়েছে। এর ফলে টার্মিনালে লঞ্চ ভেড়ানোর কোনো সুযোগ নেই; বাধ্য হয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা-পানি পেরিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে সহস্রাধিক যাত্রীকে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিন চিত্র: সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীরহাট লঞ্চঘাটের টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী জেটিটির পুরো অংশই ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। এতে টার্মিনালটি কার্যত মূল ঘাট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ঘাটের দক্ষিণ পাশে নদীর তীরে কোনো রকমে লঞ্চ ভেড়ানো হচ্ছে।

জোয়ারের সময় নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও ভাটার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পানি নেমে গেলে তীর থেকে লঞ্চের দূরত্ব অনেক বেড়ে যায়। ফলে কোমরসমান কাদা ও পানি পেরিয়ে যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে হয়। এ সময় হাতে ব্যাগ ও মালামাল নিয়ে অনেক যাত্রীকে জুতা হাতে বা পরনের কাপড় ওপরের দিকে তুলে ওঠানামা করতে দেখা যায়, যা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত বিব্রতকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ ও নির্ভরতা: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীরহাট লঞ্চঘাটটি দশমিনা উপজেলার অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ নৌযোগাযোগ কেন্দ্র। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, বরিশাল, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ভোলা, চরফ্যাশন, মনপুরাসহ নদীবেষ্টিত বিভিন্ন চরাঞ্চলের সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই ঘাটের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া: ঢাকাগামী যাত্রী কবির হোসেন হাওলাদার বলেন, “জেটিটি বিচ্ছিন্ন থাকায় লঞ্চে ওঠানামা করতে চরম কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাত ও ভোররাতে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দ্রুত নতুন জেটি নির্মাণ করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা জরুরি।”


এমভি পূবালী-৬ লঞ্চের চালক জানান, টার্মিনাল ছাড়া অনিরাপদ স্থানে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করাতে গিয়ে তাদেরও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। নিরাপদ নৌযাত্রার স্বার্থে দ্রুত জেটিটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা দরকার।

ঘাট ইজারাদার সাওফাত হোসেন বলেন, “জেটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বিআইডব্লিউটিএ পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. জাকী শাহরিয়ার বলেন, “এলাকাটি নদীভাঙনপ্রবণ হওয়ায় এবং তীর সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় নিচের মাটি সরে গিয়ে জেটিটি দুর্বল হয়ে ভেঙে গেছে। বিষয়টি প্রকৌশল শাখাকে জানানো হয়েছে। তবে নতুন জেটি নির্মাণ সময়সাপেক্ষ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই আপাতত পন্টুনটি দক্ষিণ পাশের ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।”

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “আমি বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছি। হাজীরহাট পন্টুনটি দশমিনার একমাত্র বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এটি দ্রুত সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, টেন্ডারের মাধ্যমে হাজীরহাটসহ আশপাশের পন্টুনগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে।”

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন