বাকেরগঞ্জে জিয়া সেতুর সংযোগ সড়ক দখলে প্রভাবশালী চক্র
নজরুল ইসলাম আলীম:
জিয়া সেতুর সংযোগ সড়ক দখলে প্রভাবশালী চক্র: বাকেরগঞ্জে জনদুর্ভোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো”
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ “শহীদ জিয়া সেতু” এবং এর সংযোগ সড়ক ঘিরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও আশপাশের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে তুলেছে। এতে একদিকে যেমন সড়ক সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে সেতুটির নিরাপত্তা ও নান্দনিকতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ২০০৩ সালে তৎকালীন সরকারের সময় নির্মিত ও উদ্বোধিত হয়। পান্ডব নদীর ওপর নির্মিত এ সেতু স্থানীয় জনজীবনে যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনাহীন দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে এটি এখন নানা সংকটের মুখে।পেয়ারপুর বাজার এলাকায় সেতুর ঢালসহ সংযোগ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অন্তত ২৪-২৫টি দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা। মুরগির দোকান থেকে শুরু করে কসমেটিকস, ফল, কাপড়, চা, মিষ্টি, টেইলার্স ও ওয়ার্কশপ—বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা চলছে এসব দখলকৃত জায়গায়। ফলে সড়কের প্রস্থ কমে গিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ভারী যান চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকানঘর নির্মাণের পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা সরকারি জমি দখল করে মোটা অঙ্কের অগ্রিমের বিনিময়ে দোকান ভাড়া দিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিকবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।এই সেতু ও সংযোগ সড়ক মূলত জনসাধারণের স্বার্থে নির্মিত হলেও বর্তমানে তা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত দখলদার উচ্ছেদ করে সড়ক ও সেতুর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন দখলদারিত্ব আর না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।
বাকেরগঞ্জের জিয়া সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি একটি অঞ্চলের জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই সেতু ও সংযোগ সড়ক দখল হয়ে পড়া মানে জনস্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয়, আর জনগণ কবে ফিরে পায় তাদের নিরাপদ চলাচলের অধিকার।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- জিয়া* সেতুর,সংযোগ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: