• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে কেন জিসানকে চাচ্ছে রাজপথ?


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৪৬ পিএম;
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে কেন জিসানকে চাচ্ছে রাজপথ?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়— আগামী দিনের নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন?

রাজপথের সংগ্রাম, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের দূরদর্শিতার বিচারে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন ও নানা সমীকরণ। তবে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়— সর্বত্রই একটি নাম ঘুরেফিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে। তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান *১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান*।

তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন একটাই— কেন বারবার কেন্দ্রীয় কমিটির আগামী সভাপতি হিসেবে জিসানের নামই উচ্চারিত হচ্ছে? এর নেপথ্যে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে রাজপথের আপসহীন লড়াই, একের পর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া এবং অদম্য সাহসিকতার এক অনন্য ইতিহাস।

বিএনপির হাইকমান্ড ও যুবদল নেতাদের দৃষ্টিতে জিসান
মমিনুল ইসলাম জিসানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও নেতৃত্বের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কাছে। *নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির হাইকমান্ডের এক শীর্ষ নেতা* অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় বলেন: "জিসান হলো একটি খাঁটি সোনা! অগ্নিপরীক্ষায় পুড়ে পুড়ে আজ সে রাজপথের আদর্শ নেতা হিসেবে গড়ে উঠেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান অবশ্যই এই রত্নটিকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।"

একই সুর ধ্বনিত হলো দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মুখেও। *কেন্দ্রীয় যুবদলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা* জিসানের আত্মত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:  "জিসান এ পর্যন্ত দলের জন্য যা দিয়েছে, তার সঠিক প্রতিদান সে পাবেই। বিগত দিনে যতগুলো কমিটি গঠিত হয়েছে, কোনোটিতেই সে তার প্রাপ্য মূল্যায়নটুকু পায়নি। কিন্তু রাজনীতিতে তার ত্যাগ ও অবদানকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।"

কাশিমপুর জেলখানা ও ২৮ অক্টোবরের ষড়যন্ত্র: প্রাপ্য মূল্যায়ন না পাওয়ার নেপথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের কারণে বারবার যোগ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে জিসানকে। সর্বশেষ যখন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি একই দিনে ঘোষণা করা হয়, তখন জিসান ছিলেন কাশিমপুর জেলখানার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে।

তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আজ্ঞাবহ ডিবি কর্মকর্তা হারুন তাকে মিথ্যা ও বানোয়াট অস্ত্র মামলা দিয়ে জেলে আটকে রেখেছিল। মূলত বিএনপি ঘোষিত ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে দুর্বল করতেই সরকার জিসানের মতো নিরেট ত্যাগী ও সাহসী নেতাদের পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে কারাগারের প্রকোষ্ঠেও তার রাজনৈতিক মনোবল ভাঙতে পারেনি স্বৈরাচারী শাসক।

ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা
চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে মমিনুল ইসলাম জিসান রাজপথে অত্যন্ত সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের পাশে নিয়ে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি।

ক্যাম্পাসে অদম্য লড়াই: ১৭ বার হামলার পরও ছাড়েননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের মূল টার্গেটে ছিলেন জিসান। তিনি নিজ ক্যাম্পাসে মোট *১৭ বার নৃশংস হামলার শিকার* হয়েছেন, তবুও কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাননি। ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তাকে টানা ২০ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে দীর্ঘ ২ মাস বিছানায় কাটাতে হয়। কিন্তু সুস্থ হয়েই তিনি আবার ফিরেন রাজপথের মিছিলে।

৬ বার কারাবরণ, নির্মম রিমান্ড ও গুমের অপচেষ্টা
রাজনীতিতে আত্মত্যাগের বিচারে জিসান এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রাজপথের আন্দোলনের কারণে তাকে এ পর্যন্ত *৬ বার কারাবরণ* করতে হয়েছে এবং জীবনের মূল্যবান *প্রায় ২ বছর জেলখানায়* বিসর্জন দিতে হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে তাকে ৪ বার অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।

এমনকি *২০২৩ সালের ১৮ই আগস্ট* গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গুম করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিল। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের অত্যন্ত কঠিন, সময়োপযোগী ভূমিকা ও রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে সেই গুমের নীলক নকশা নস্যাৎ হয় এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন জিসান।

লোকদেখানো রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক রাজপথের যোদ্ধা
মমিনুল ইসলাম জিসান কখনো লোকদেখানো কিংবা সামাজিক মাধ্যমের সস্তা জনপ্রিয়তা চাননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন আদর্শকে অন্তরে লালন করে তিনি নীরবে দলের জন্য কাজ করেছেন। দেশের যেকোনো প্রান্তে নেতাকর্মীদের দুঃসময় এলেই তিনি ছুটে গেছেন পাশে দাঁড়াতে ও সান্ত্বনা দিতে।

১৭ বার হামলার শিকার হয়েও ক্যাম্পাস না ছাড়ার সাহসিকতা, কাশিমপুর জেলখানায় বসে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এবং দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল কর্মীদের মন জয় করার সুবাদেই আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের 'সভাপতি' পদে জিসানের নাম আকাশে-বাতাসে ভাসছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একমাত্র প্রত্যাশা— তারুণ্যের এই নতুন জয়যাত্রায় মমিনুল ইসলাম জিসানের হাতেই উঠবে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঝাণ্ডা।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন