নর্দান ইউনিভার্সিটিতে সংবাদকর্মীদের ডেকে নিয়ে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ
জাহিদ মিয়া :
রাজধানীর নর্দান ইউনিভার্সিটিতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে হয়রানি এবং পরবর্তীতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেনের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনভর এ অনাকাঙ্ক্ষিত ও ‘নাটকীয়’ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য শনিবার সকাল ১০টায় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানায় কর্তৃপক্ষ। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হন। সংবাদ সংগ্রহের কাজ শেষ করে দুপুরের দিকে সাংবাদিকরা ফিরে যেতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘সুব্যবস্থা’ করার কথা বলে তাদের অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন।
অপেক্ষা করতে করতে বিকেল ৫টা বেজে গেলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সাংবাদিকদের বসিয়ে রাখায় সেখানে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশেষে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে সাংবাদিকরা সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন।
মিডিয়া সেলের বিতর্কিত ভূমিকা
ঘটনার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন এবং মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কবির হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
পরবর্তীতে কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমাদের সময় ও যুগান্তরসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় কাজ করার দাবি করেন এবং প্রিন্সিপালকে কেন ফোন করা হয়েছে—তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তার আচরণ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অপ্রত্যাশিত, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিস্মিত করে।
সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া :
এ ঘটনায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক রোমান সানজু। তিনি বলেন,
“পেশাগত কারণে আমরা বিভিন্ন স্থানে যাই, কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এমন অপেশাদার ও হয়রানিমূলক আচরণ মোটেও কাম্য নয়। দাওয়াত দিয়ে এনে সাংবাদিকদের হেনস্তা করা এবং উল্টো হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
নতুন করে আলোচনায় সাংবাদিক হয়রানি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা প্রদান ও হয়রানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। নর্দান ইউনিভার্সিটির এই ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: