ইউপি সচিবকে মারধর ও ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে (সচিব) লাঞ্ছিত করার পর মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে পুনরায় হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সাইয়েদ নুর ই আলম পঞ্চগড় সদর উপজেলার হারিভাষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জেলায় কর্মরত ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলিউল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার পরিষদের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত এক সভায় এই ঘটনার সূত্রপাত। হারিভাষা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর ই আলম ভিজিএফ চালের খালি বস্তা বিক্রির টাকা এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিটি গরু জবাইয়ের ফি বাবদ আদায়কৃত ২০০ টাকা করে খরচের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানান।
"হিসাব চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারতে তেড়ে আসেন। পরে গ্রাম পুলিশ আবু হানিফ ও অলন্ত রায় আমাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধর করেন। এরপর চেয়ারম্যান নিজে মার খেয়েছেন—এমন গুজব রটিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ডেকে আনেন
ভুক্তভোগী কর্মকর্তার দাবি করেন, চেয়ারম্যানের ফোনে আসা লোকজন তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে এলে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তার ওপর ডিম ছুড়ে মারে এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মানববন্ধনে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিলুর ও হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য বক্তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলা ও গুজব ছড়িয়ে হেনস্তা করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। বক্তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও জড়িত গ্রাম পুলিশদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হারিভাষা ইউনিয়ন পরিষদে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
- বিষয়:
- ইউপি* সচিবকে,মারধর
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: