• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ত্রাসের  রাজত্ব চলছে 


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৩৮ পিএম;
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ত্রাসের  রাজত্ব চলছে 

মো: জাহিদ মিয়া :


রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তিতে ত্ক্ষরাসের রাজত্ব ।

ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা  আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকে যারা  এলাকা শাসন করেছেন, তারাই এখন রাতারাতি ভোল পাল্টে ‘নব্য বিএনপি’ সেজে বস্তিবাসীর ওপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিশেষ করে মোশারফ বাজার, জামাই বাজার ও কুমিল্লা পট্টি এলাকায় এখন চলছে সেইসব সন্ত্রাসীদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চাঁদাবাজির মহোৎসব।​ ​স্থানীয়দের অভিযোগ, মোশারফ বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রক ছিলেন বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৯নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ৬নম্বর বাবু। বিএনপি নেতা মোশারফ হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি হওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকারের আমলে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বর্তমানে বাবু আত্ম গোপনে থাকলেও তার আপন ভাই টুটুল এখন সেই রাজত্বের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত টুটুল এখন বিএনপির ‘মুকুট’ মাথায় দিয়ে মাফিয়া স্টাইলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রভাবশালী আরও দুইজন; যারা দলীয় ব্যানার ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করছেন। অভিযোগ ​সন্ধ্যা নামলেই বসে ‘টর্চার সেল’ও বিচার সভা ​। কড়াইল বস্তির অন্ধকার জগত এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে। জামাই বাজার এলাকায় রতন, কানন, মোকলেছ এবং বিপ্লব গড়ে তুলেছেন অঘোষিত টর্চার সেল। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় তথাকথিত ‘বিচার কার্যক্রম’ শুরু হয়, যা আসলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং অবাধ্যদের শায়েস্তা করার একটি প্রক্রিয়া। শাজাহান সরকার নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন মহলে লবিংয়ের মাধ্যমে এই চক্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ​অবৈধ সেবা খাতের ‘চ্যাম্পিয়ন’ সিন্ডিকেট ​বস্তির কয়েক হাজার ঘরের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ এখন এই চক্রের আয়ের মূল উৎস। ​আমজাদ (মোশারফ বাজার): প্রতিটি সরকারের আমলেই তিনি বিদ্যুৎ ও পানি বাণিজ্যের ‘নাম্বার ওয়ান চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে পরিচিত। ​কারেন্ট বাদশা  প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দাপটের সাথে। ​বিলাল হোসেন ও আমেনা বেগম: তারা অবৈধ পানি ও গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ​জুয়ার ভোট ও ত্রাসের রাজত্ব ​কুমিল্লা পট্টি এলাকায় নজরুল গং এক অভিনব আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যাকে স্থানীয়রা বলছেন ‘জুয়ার ভোট’। সন্ধ্যার পর ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এরা প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে নিজেদের আধিপত্যের কথা জানান দেয়। এটি মূলত একটি পদ্ধতিগত চাঁদাবাজি, যার মাধ্যমে বস্তির প্রতিটি ঘর থেকে নিয়মিত চাঁদা এবং আনুগত্য নিশ্চিত করা হচ্ছে। যারা এই নির্দেশ অমান্য করছে, তাদের ঘর ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ​নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ । ​মোশারফ বাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগে এক দল লুটতরাজ করত, এখন অন্য দল এসে একই কাজ করছে দ্বিগুন গতিতে। বিশেষ করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে যারা এসব করছে, তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তৃণমূলের প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীরাও। মাদক ও জাল টাকার কারবারিরা এখন রাজনৈতিক ব্যানারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ​আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কড়াইল বস্তিতে গড়ে ওঠা এই অপরাধ সাম্রাজ্য এবং টর্চার সেলের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কাম্য  বস্তিবাসীর।অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থাকছে  পরবর্তী পর্বে ।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন