এক মানবিক ডাক্তারের দেখা মিলল ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে
হাতে ক্যানুলা ও শরীরে স্যালাইন নিয়েই রাতভর রোগী দেখলেন অসুস্থ চিকিৎসক
স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা:
রাত তখন প্রায় ১২টা। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। একের পর এক মুমূর্ষু রোগী আসায় কক্ষের বাইরে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। এমন ব্যস্ত মুহূর্তে জানা গেল, জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ নিজেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
তার হাতে ক্যানুলা ও শরীরে চলছে স্যালাইন। তবে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি; বরং স্যালাইন চলা অবস্থাতেই চেয়ারে বসে গভীর রাত পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে গেছেন এই তরুণ চিকিৎসক।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এ মানবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে অন্য একজন চিকিৎসক জরুরি বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি বাসায় ফেরেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের। অভিযোগ রয়েছে, দিনে দুই শিটে প্রায় ১৮ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হয় একজন চিকিৎসককে। অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ক্লান্তির কারণেই শুক্রবার রাত ১২টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জরুরি বিভাগের ডা. ইরফান মাহমুদ।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে হাসপাতালেই ভর্তি করতে হয়।
নিজের অসুস্থতার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ডা. ইরফান মাহমুদ বলেন, ‘রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আমার দুই-তিনবার বমি হয়। একপর্যায়ে রক্তচাপ কমে ৬০/৯০-এ নেমে গেলে আমি অত্যন্ত অসুস্থ বোধ করি। পরিস্থিতি দেখে কর্তব্যরত নার্সরা দ্রুত আমাকে স্যালাইন দেন। কিন্তু ঠিক সে সময়ই জরুরি বিভাগে
কিছু মুমূর্ষু রোগী আসায় চলমান স্যালাইন অবস্থাতেই আমি রোগীদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হই।’ বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন জানিয়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই জনগুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক দিয়ে কোনোমতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে কনসালট্যান্ট ছাড়া মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক পালাক্রমে দুই শিফটে জরুরি বিভাগের বিশাল চাপ
সামাল দিচ্ছেন। চিকিৎসক সংকটের এই করুণ দশার স্থায়ী সমাধান না হলে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীর স্বজনরা।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: