ঝিনাইদহে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিডব্লিউবি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৫ নং কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি প্রকল্পে ইউনিয়ন প্রশাসক নিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে নিয়ম অনুযায়ী দুস্থ নারীদের সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংকে ডিপিএস হিসেবে জমা থাকার কথা থাকলেও, দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে কোনো ব্যাংক একাউন্টই খোলা খোলা হয়নি। উল্টো প্রতি মাসের সঞ্চয়ের নগদ টাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) মো: নজরুল ইসলাম তার নিজের কাছে গচ্ছিত রেখেছেন। সেই হিসাবে গত ১১ মাসে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। উল্লেখ্য ২৪ মাস মেয়াদি প্রকল্পের ১৪ মাস পার হলেও উপকারভোগী কার্ডধারীদের নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি।
এই প্রসঙ্গে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বললে সে বলে যে এই ব্যাপারে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলতে পারবে। তবে আমি জানি যে সবার নামে হিসাব খুলে সেখানে টাকা জমা দেয়া হয়েছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি শুধু বলেন যে ব্যাংক একাউন্ট করা হয়েছে সেখানে টাকা জমা দেয়া হয়ে থাকে এই ব্যাপারে আপনার কিছু করার দরকার নেই। ক্যামেরার সামনে সে কোন কথা না বলে দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে চলে যান। যার কারনে তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন প্রাপ্য তথ্য থেকে জানা যায় যে উক্ত প্রকল্পে তদারকির জন্য উই নামেএকটি বেসরকারি সংস্থা রয়েছে যাদের এই প্রকল্প তদারকি করার দায়িত্ব রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বেসরকারি সংস্থা উই এর পরিচাল শরীফা খাতুন এর সাথে কথা বললে সে বলে যে আমরা গত ২৮ শে এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পেয়েছি কিন্তু আমাদের কর্মী প্রশিক্ষণ সহ প্রজেক্টে প্রবেশ করতে সময় লেগেছে যার কারণে আমরা গত মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নে এই দুস্থ নারীদের নিয়ে মিটিং করে জেনেছি যে সকলে ঠিকমতো ব্যাংক একাউন্ট করে সে সিলেট নিয়ে চাউল উঠাচ্ছে মাত্র ইউনিয়নে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে তারা ব্যাংক একাউন্ট করতে পারিনি বিধায় তাদের কোন টাকা নেয়া লাগেনা। আমরা ভুক্তভোগী নারীদের সাথে কথা বলেছি তারা এ প্রসঙ্গে আমাদের কাছে কিছুই বলেনি।
উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ জেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সির ফিরোজা বেগমের সাথে কথা বললে সে বলে যে টাকা দুস্থ নারীদের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়ে ব্যাংক স্লিপ নিয়ে চাউল নিয়ে যাওয়ার কথা। যদি ব্যাংক একাউন্ট না থাকে তাহলে কোন নগদ টাকা কেউ নিতে পারবে না। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে মনিটরিং কাজের দায়িত্বে থাকা এনজিওদের সিলেকশন করতে দেরি হয়েছে মাত্র চার মাস আগে এনজিওদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সবকিছু তদারকি করে গত আগস্ট মাস থেকে এনজিও কাজ করছে। তবে ঘটনা যাই ঘটুক আমি দ্রুতই উক্ত ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অফিসে ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে যে য়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আরো বলেন যে উনি বিগত দিনে হরিনাকুন্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নে কর্মরত ছিল সেখানেও উনি উক্ত ধরনের কর্ম সম্পাদন করেছেন। এই নজরুল ইসলাম পূর্ব থেকেই দুর্নীতিবাজ বলে তিনি জানান।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: