• ঢাকা
  • শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারের বাড়তি ব্যয় ৩৮ লাখ টাকা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৪৯ পিএম;
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ: সরকারের বাড়তি ব্যয় ৩৮ লাখ টাকা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের পথ্য ও স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের বছরে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক ঠিকাদার।

দরপত্রে অংশ নেওয়া মেসার্স আলতাফ হোসেনের স্বত্বাধিকারী মো. আলতাফ হোসেনের দাবি, গত ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দরপত্রে রোগীদের পথ্য ও স্টেশনারি সরবরাহের দুটি গ্রুপেই তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। প্রয়োজনীয় সব নিয়ম ও পে-অর্ডার জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি এবং কী কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সদুত্তরও তাকে জানানো হয়নি।

অভিযোগপত্রে মো. আলতাফ হোসেন উল্লেখ করেন, রোগীদের পথ্য সরবরাহের জন্য তার দর ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অথচ তার চেয়ে ৩২ লাখ টাকা বেশি অর্থাৎ ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে তার দর ছিল ১২ লাখ টাকা, যেখানে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের দর ছিল ১৮ লাখ টাকা। 
অর্থাৎ এ খাতেও অতিরিক্ত ৬ লাখ টাকা বেশি ধরা হয়েছে। দুটি গ্রুপ মিলিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩৮ লাখ টাকা গচ্চা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দরপত্রের নিয়মানুযায়ী পথ্য সরবরাহের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং স্টেশনারির জন্য ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দিয়েছিলেন তিনি। গত আট থেকে নয় বছর ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে 
পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করে আসছেন। এছাড়া পটুয়াখালী জেলা কারাগার, পুলিশ লাইন, কোস্ট গার্ড এবং বিভিন্ন এতিমখানায় দীর্ঘকাল ধরে পণ্য সরবরাহের সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। অথচ এবার কোনো কারণ ছাড়াই তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।


এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ছুটিতে থাকায় একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বর্তমানে তার দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. কবির হাসান বলেন, ‘অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তত্ত্বাবধায়ক ভালো বলতে পারবেন। আমি এ বিষয়ে অবগত নই।’

এদিকে সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়া পর্যালোচনা ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার। পাশাপাশি ওই আবেদনের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকারি দপ্তরের ক্রয় কার্যক্রম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন করা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরে কার্যাদেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ বা এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন