• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. রাজনীতি

ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে সমাবেশের ডাক দিলো মহিলা জামায়াত


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৩০ পিএম
ইতিহাসে প্রথমবার প্রকাশ্যে সমাবেশের ডাক দিলো মহিলা জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটির মহিলা শাখা।

আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো নারী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মোহাম্মদ তাহের।

ডা. তাহের সতর্ক করে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচিতেও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবে আমাদের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও আমরা রাজপথে বড় ধরনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। আপাতত আমরা মহিলা শাখার কর্মসূচি ঘোষণা করছি যাতে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হয় এবং তারা দৃষ্টিপাত করে।

তিনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের সংযত হতে হবে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় এই জাতি যা করণীয়, তা-ই করবে।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, মহিলা কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে যারা বাহানা বলছেন, তারা ভুল করছেন। আমাদের কাছে প্রতিটি ঘটনার প্রামাণ্যচিত্র রয়েছে। মূলত হামলা চালিয়ে জামায়াতকে মাঠছাড়া করার এটি একটি অপকৌশল। জামায়াত নির্বাচন বর্জন করবে কেন? বরং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় যা যা করা দরকার, জামায়াত সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সারাদেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলায় বিএনপির সম্পৃক্ততা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জড়িত বলেই আমরা সেটি লিখিতভাবে উল্লেখ করেছি। কারণ, মাঠে বিএনপি ছাড়া আমাদের আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর শক্তি নেই। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট— লড়াই তো মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যে।

আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে তাহের বলেন, কিছু জায়গায় মামলা হচ্ছে, আবার কোথাও হচ্ছে না। কারণ নির্বাচনের সময় থানা-পুলিশে দৌড়ঝাঁপ করিয়ে আমাদের ব্যস্ত রাখাটাও প্রতিপক্ষের একটি কৌশল। তবে আমরা স্পষ্ট বলতে চাই— নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের নারী প্রতিনিধিরা কমিশনে গিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ জানাবেন।

নারীদের ওপর সহিংসতার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, আজ যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা এক দলের নারী; কাল তারা অন্য যেকোনো দলের হতে পারেন। এই সহিংসতা থামানো না গেলে রাজনীতি থেকে নারীদের সরিয়ে দেওয়ার একটি ভয়ংকর প্রক্রিয়া শুরু হবে। নারীদের ওপর নির্যাতন শুধু নারী সমাজের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি ভয়াবহ সংকেত। যেখানে নারী নিরাপদ নয়, সেখানে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। যেখানে নারীর কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয় এবং শরীর আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হয়, সেখানে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে। আমরা আজ রাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই— নারীর ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা কোনো দলীয় ইস্যু নয়। এটি একটি জাতীয় মানবাধিকার সংকট। এটি সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এটি নারী উন্নয়ন নীতির সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা।

ছয় দাবি জামায়াতের—

১. নারীদের ওপর সংঘটিত সব হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

২. দোষীদের দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩. নির্বাচনী কর্মসূচিতে নারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও উসকানিমূলক প্রচারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৬. গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে নিরপেক্ষভাবে নারীর পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

দৈনিক পুনরুত্থান / নিজস্ব প্রতিবেদক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন