• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Advertise your products here

  1. শিক্ষা

ইউজিসি বন্ধ করতে চায় 'সান্ধ্য কোর্স'


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৫০ এএম
ইউজিসি-বন্ধ-করতে-চায়-সান্ধ্য-কোর্স
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বন্ধ করতে চায় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান স্নাতকোত্তর ও স্নাতক পর্যায়ে সান্ধ্য, এক্সিকিউটিভ ও উইকেন্ড কোর্সগুলো।

ইউজিসি রাষ্ট্রপতির কাছে এক সুপারিশনামায় বলেছে, নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে এই কোর্সগুলোর কারণে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার একটি প্রতিনিধি দল জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে ৪৮তম 'বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২১' এবং ১৭টি সুপারিশ জমা দিয়েছেন।

এ ছাড়াও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধে আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে‘স্বতন্ত্র নিয়োগ কমিশন’। ‘আর্থিক ম্যানুয়াল ও অভিন্ন আর্থিক নীতিমালা’ প্রণয়ন, নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের অসচ্ছল এবং পূর্ণ ক্ষমতা শিক্ষার্থীকে ইউজিসি ‘শিক্ষা ঋণ’ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

আরও পড়ুন>> বিশ্ব স্থিতিশীলতা ও শান্তি মানবতার স্বার্থে বজায় রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ইউজিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা সান্ধ্য প্রোগ্রাম চালু রয়েছে অন্তত ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে। এসব কোর্সে নিয়মিত কোর্সের তুলনায় ভর্তি করানো হয় অনেক বেশি শিক্ষার্থী। কাড়ি কাড়ি টাকা নেওয়া হয় টিউশন ফির নামে। কোর্স ফির পরিমাণ বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ছাড়িয়ে যায় এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা। আর শিক্ষকদের পকেটেই এ টাকার বেশিরভাগ যায়।  তাই সান্ধ্যের বাণিজ্যিক কোর্সে নিয়মিত কোর্সের চাইতে শিক্ষকদের আগ্রহ বেশি থাকে।

ইউজিসি সুপারিশনামায় বলেছে,ভাবমূর্তি, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য হওয়ায় বন্ধ হওয়া জরুরি কোর্সগুলো। তবে ইউজিসির পূর্বানুমোদনক্রমে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী শর্ট কোর্স, ডিপ্লোমা, ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও ভোকেশনাল পরিচালনা করা যেতে পারে। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক বলেন, ‘এবার প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ভালো কিছু সুপারিশ। চলমান ও স্থায়ী সংকট সমাধানে উচ্চশিক্ষা খাতে করা হয়েছে ১৭টি সুপারিশ।’

অন্যান্য খবর>> বিশ্ব স্থিতিশীলতা ও শান্তি মানবতার স্বার্থে বজায় রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ইউজিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা পরিচালনা ও ক্যাম্পাস স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির জন্য বিদ্যমান বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার বা শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনা যে উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছে বিধিমালা-২০১৪-এর সংশোধন করার, তা দ্রুত বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

ইউজিসি নিয়মিতভাবে সিন্ডিকেট, এবং বোর্ড অব ট্রাস্টি, আর্থিক, একাডেমিক সভা না করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ, ও ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেননি। এমনকি অনেকেই কমিশনে জমা দিতে নারাজ তাদের আর্থিক প্রতিবেদন। অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি নেই প্রো-ভিসি বা ভিসি নিয়োগের জন্য। তাই কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী, ইউজিসির পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।

 

পুনরুত্থান/সালেম/সাকিব/এসআর

দৈনিক পুনরুত্থান / স্টাফ রিপোর্টার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন