আলফাডাঙ্গায় নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মানের দাবীতে মানববন্ধন
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া গ্রামে পার্শ্ববর্তী মধুমতি নদীন ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী।
নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ওই অঞ্চলের হাজারও মানুষ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় মধুমতী নদীর পাড়ে ভাঙন কবলি স্থানে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
ইতোমধ্যে দুইটি মসজিদ, প্রায় ৫০০ একর জমি ও ১২০ থেকে ১৩০টি বসতঘরসহ অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এনডিসি আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিন বিদ্যালয়, চর খোলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি সাব-পোষ্ট অফিস, একটি এতিমখানা, ছয়টি মসজিদ, ফসলি জমি, বসতঘরসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা। গত বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাদ্রাসার সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। তবে সেটা চাহিদার তুলনায় খুবই কম ছিল। এবছর সেই জিও ব্যাগসহ নদীর অনেক স্থান বিলীন হয়ে গেছে।
আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে মাত্র ৪০ গজ দূরে রয়েছে নদী। যে ভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে ভাঙন রোধে জরুরী ভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েক দিনের মধ্যে বিলীন হতে পারে উপজেলার ঐতিয্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসাসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ কবরস্থান, হাজার একর ফসলি জমি ও' বসতঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে মধুমতি নদীতে। বছর ধরে একধারে ভাঙনে চর মাকড়াইল নামের একটি গ্রাম ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে চর খোলাবাড়িয়া নামের অপর একটি গ্রাম আলফাডাঙ্গার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে। ফলে এই অঞ্চলের মানুষ চায় নদী ভাঙ্গনন রোধে স্থায়ী সমাধান।
আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মো. আব্দুর রব জানান, আমাদের মাদ্রাসা থেকে সামান্য দুরে রয়েছে। আমরা এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন পার করছি। আমাদের ঐতিয্যবাহি প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা না হলে এ অঞ্চলে শিক্ষার মান পিছিয়ে পড়বে। আমরা স্থানীয় বাঁধের জন্য মঙ্গলবার কয়েক গ্রামের প্রায় দুই হাজার লোক নদী পাড়ে ভাঙন কবলিত স্থানে স্থায়ী বাঁধের জন্য মানববন্ধন করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বড় উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।
আল-হেরা মাদরাসার দশম শ্রেনীর ছাত্র আব্দুল জব্বার ও ফাতেমা খানম জানান, এক মাস পূর্বেও নদী আ দূরে ছিল। এখন নদী ভাঙতে ভাঙতে মাদ্রাসার কাছাকাছি চলে আসচ্ছে। এক মাস পর আমা ফাইনাল পরিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি ভেঙে যায় তাহলে আমাদের পড়ালেখার মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হবে। আমারা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করার জন্য সরকারে সহযোগীতা কামনা করছি। রইচউদ্দিনের মা একই কথা বললেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিজুল্লাহ ও সাজ্জাদ হোসেন।
চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আলমগীর খান জানান, এখান থেকে প্রায় ৬০ গজ দূরে নদীর অবস্থান। এই স্কুলে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। অ রোধে স্থায়ী সমাধান চাই সরকারের কাছে।
চর খোলাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া জানান, এ বছর নদী ভাঙনে তার ৫ একর ও ৪টি বসতঘর ভেঙে গেছে নদীতে এখন আমি অন্যর জমিতে কোনো রকম ঘর তুলে জীবনযাপন করছি।
কৃষক আব্দুস ছত্তার মিয়া তিনিও চর খোলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নদী গর্ভে বিলীন হ একর ফসলি জমি ও তিনটি ঘর। অনন্ত ২০ জন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদে জমি ও বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তারা বাপ-দাদার ভিটে ছাড়তে চায় না। তিনি স্থায়ী বাঁধের দাবি করেন।
দিগনগর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকা গত তিন বছর ধরে মৌসুমে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বছর ভাঙন রোধে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। সেটাও বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এর একটি স্থায়ী সমাধান চাই।
বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান আব্দুল ওহাব পান্না জানান, 'আমাদের দিগনগর, চর খোলাবাড়িয়া ও চর মাকড়াইল গ্রাম তিনটি নদীতে বিলীন হতে বসো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। আমরা এর একটি চাই। এ বছর যে ভাবে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে করে সরকারি ও বেসরকারি প্র ফসলি জমি শত শত বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসত জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরী ভিত্তিক এর একটি সমাধান চাই আমরা'।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রায়হ জানান, 'স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন জরুরী ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ভজিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে'।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন জানান, 'ভাঙ স্থানে জরুরী ভিত্তিক আগামী দুই দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: