• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৮ আগষ্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বোয়ালমারীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর, প্রশ্নফাঁসসহ নানান অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৪৭ এএম;
বোয়ালমারীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর, প্রশ্নফাঁসসহ নানান অভিযোগ

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:


ফরিদপুরের বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগএসছে।  শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়ামুল হাসান পরশের মা সখিনা খানম আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মহসীন আলমের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ আনেন।
অভিভাবকের দাবি, গত ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ফিজিক্স ক্লাসের সময়ে শিক্ষক মহসীন আলম তার ছেলের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এ সময় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরেন। এ সময় শিক্ষকের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিভাবক আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক তার ছেলেকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার সময় গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এতে তার ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। 
অন্যদিকে, একই দিন সোমবার কয়েকজন অভিভাবকের স্বাক্ষর করা পৃথক অভিযোগে শিক্ষক মহসীন আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি সৃষ্টি, শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি এবং পরীক্ষার খাতায় অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই শিক্ষক নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের গণিত পড়ান। ক্লাসে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো এবং তার পরিচালিত কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। পরীক্ষার আগের দিন কোচিং সেন্টারে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া অভিযোগকারীদের দাবি, সামান্য কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে অশোভন আচরণ করেন ওই শিক্ষক। পরীক্ষার খাতায় যোগ-বিয়োগ, সংখ্যা ও বানানসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মান নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিভাবকেরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মহসীন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় পদার্থবিজ্ঞান খাতা দেখার সময় এক শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তাঁর হাত থেকে খাতা নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাকে চড় দেন এবং শিক্ষার্থীও তাঁকে মারার জন্য হাত তোলে। পরে তিনি ওই শিক্ষার্থীর হাত ধরে আরও দুইটি চড় দিয়ে তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেন।”
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ মোল্যা বলেন, "কয়েকজন অভিভাবক তাঁর কাছে মহসীন স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার ঘটনার সত্যতা দেখতে পান।" তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে অন্য একজন অভিজ্ঞ শিক্ষককে দিয়ে খাতাটি পুনরায় মূল্যায়ন করানো হবে। পুনর্মূল্যায়নের পর খাতা মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন," উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া, নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগসহ তার কাছে প্রাইভেট না পড়া শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ আগে থেকেই ছিলো একাধিক সুত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 
 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন