সীমান্তে চরম দুর্ভোগ: পুশ ইনের চেষ্টায় খোলা আকাশের নিচে কাঁপছে ১০ নারী-শিশু-পুরুষ
মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের চেষ্টার মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ১০ জন ব্যক্তি। নারী ও শিশুসহ এই ব্যক্তিরা টানা ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সীমান্ত রেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ সময় চরম অনিশ্চয়তা আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মাঠে পড়ে থাকায় তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতির শিকার ১০ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা বর্তমানে সীমান্ত-সংলগ্ন একটি জলমগ্ন কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে বিএসএফ ওই ১০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা চালায়। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে থেকে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়েন।
এলাকাবাসী আরও জানান, শুক্রবার রাতে সীমান্ত এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময়ও এই অসহায় নারী ও শিশুরা বিন্দুমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়নি। কোনো ধরনের অস্থায়ী আশ্রয় বা মানবিক সহায়তা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে কাদাপানিতে ভেজা মাঠের মধ্যে অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের। ফলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর অনাহারে বিশেষ করে শিশুদের দুর্ভোগ ও অসুস্থতার ঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে।
সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বিজিবি ওই এলাকায় তাদের টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনো এই সংকটের কোনো সুষ্ঠু সমাধান বা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হয়নি। ওপারে আটকে পড়া মানুষদের ভাগ্য নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা কাটেনি।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিএসএফ তাদের ফেরত নিয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমরাও জানিয়েছি অবৈধভাবে পুশইন কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। আজ আবারও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়া চলছে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
- বিষয়:
- সীমান্তে* চরম,দুর্ভোগ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: